রাজনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রাজনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জ্বালানির কৃত্রিম সংকট ও চোরাচালান রোধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জ্বালানির কৃত্রিম সংকট ও চোরাচালান রোধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

 "দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি ও চোরাচালান রোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মজুতদারদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযান চলবে।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ২০:০০

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি ও চোরাচালানের চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে তিনি সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকারও নির্দেশ দিয়েছেন।

শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম।

বৈঠকের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:

  • শোক প্রকাশ: বৈঠকের শুরুতেই জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।

  • জ্বালানি মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান: চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, "দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। মজুতদারদের বিষয়ে আজ বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। চোরাচালান রোধ করতে ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।"

  • সড়ক দুর্ঘটনা রোধ: সদ্য সমাপ্ত ঈদুল ফিতরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

  • অধ্যাদেশ ও পরবর্তী বৈঠক: চিফ হুইপ জানান, এদিনের বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অধ্যাদেশগুলো নিয়ে আলোচনা হয়নি। রোববার (২৯ মার্চ) বিশেষ কমিটির বৈঠকে এগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

রোববার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগেই ওইদিন দুপুরে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে ফের বৈঠকে বসবে বিএনপি।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ যাচাইয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ যাচাইয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক

 "অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন জয়নুল আবেদিন এমপি।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ২০:০০

ছবি: জাতীয় সংসদ / বাসস

ঢাকা: বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এই বৈঠক সম্পন্ন হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন এমপি। শুরুতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতার রুহের মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

যারা উপস্থিত ছিলেন: বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাতীয় সংসদ সচিবালয় এবং আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

আলোচিত উল্লেখযোগ্য অধ্যাদেশসমূহ: এদিনের বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

  • দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ

  • সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ

  • গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ

  • পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ

  • জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ

  • বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) সংশোধন অধ্যাদেশ

এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ক্রীড়া পরিষদ এবং ট্রাস্টের নাম সংশোধন ও রহিতকরণ সংক্রান্ত আরও বেশ কিছু অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করা হয়।

কমিটির সিদ্ধান্ত: বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, আগামী সভাগুলোতে বাকি অধ্যাদেশগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। সব অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয়তা ও যথার্থতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশ করবে এই বিশেষ কমিটি।

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: নিহতদের লাশ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিল জামায়াত

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: নিহতদের লাশ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিল জামায়াত

 "কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহতদের লাশ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সার্বিক তদারকিতে গঠন করা হয়েছে সমন্বয় কমিটি।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬, ১৯:৫০

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা: কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ১২ হতভাগ্য যাত্রীর লাশ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার মানবিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামী।

সমন্বয় কমিটি গঠন ও হাসপাতালে পরিদর্শন: অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়িতে করে নিহতদের মরদেহ তাদের ঠিকানায় পাঠানো এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে দলটির পক্ষ থেকে একটি বিশেষ সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। সার্বিক তদারকির জন্য কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামরুজ্জামান সোহেলকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর আহত ও নিহতদের খোঁজখবর নিতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এবং মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা মাহবুবুর রহমান।

জামায়াত নেতার ক্ষোভ ও দাবি: এর আগে, দুর্ঘটনার পরপরই শনিবার দিবাগত রাতে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা।

সেখানে তীব্র ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে মহানগর জামায়াতের আমির বলেন, "ঘটনাস্থলে কোনো গেটম্যান বা নাইট গার্ড উপস্থিত না থাকার কারণেই এত বড় একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এমন প্রাণহানি রোধে রেলক্রসিংগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।" তিনি এই ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জোর দাবি জানান এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড লেভেল ক্রসিং এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী ‘মামুন পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের এই সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ১২ জনের মৃত্যু হয় এবং অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হন।

ঈদযাত্রীদের ওপর চরম জুলুম চলছে, দায় সরকারকে নিতে হবে: বিরোধীদলীয় নেতা

ঈদযাত্রীদের ওপর চরম জুলুম চলছে, দায় সরকারকে নিতে হবে: বিরোধীদলীয় নেতা

 "ঈদযাত্রায় ইতিহাসের জঘন্যতম অব্যবস্থাপনা ও চরম জুলুম চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি এর জন্য সরকারকে দায়ী করেছেন।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ২১:৪৫

ছবি: ফাইল ছবি / সংগৃহীত

ঢাকা: আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের ওপর চরম মাত্রায় জুলুম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এবারের ঈদযাত্রাকে তিনি ‘ইতিহাসের জঘন্যতম অব্যবস্থাপনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর পুরো দায়ভার সরকারের ওপর চাপিয়েছেন।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে এসব কথা বলেন।

ঈদযাত্রায় সীমাহীন ভোগান্তি: ডা. শফিকুর রহমান তার পোস্টে বলেন, "শহরের কর্মজীবী মানুষগুলো সারা বছর ধরে একটা বুকভরা প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করে, কবে ঈদে আপনজনদের সাথে মিলিত হবে। কিন্তু এই আনন্দযাত্রায় সাধারণ যাত্রীদের ওপর চরম জুলুম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।"

মিথ্যাচার ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ: এই চরম ভোগান্তি ও অব্যবস্থাপনার জন্য সরাসরি সরকারকে দায়ী করে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, সরকার গঠনের পরপরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন, মূলত সেটিই এই অব্যবস্থাপনার মূলভিত্তি।

তিনি অভিযোগ করেন, বাস মালিকরা ঈদের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে কম ভাড়া নিচ্ছেন বলে জনগণকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। বিষয়টিকে ‘চরম মিথ্যাচার’ বলে দাবি করে তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, সাধারণ মানুষের এই সীমাহীন দুঃখ-কষ্ট দেখার যেন কেউ নেই।

ফ্যাসিবাদ নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি: দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা প্রশ্ন তোলেন, "প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ কি তবে আবারও ফ্যাসিবাদের করাল গ্রাসে পড়তে যাচ্ছে?"

যারা নতুন করে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, জাগ্রত ছাত্র-জনতা ও যুবসমাজ তা কোনোভাবেই বরদাশত করবে না। সময় থাকতে সাবধান না হলে এর চরম পরিণতি ও দায়ভার এই বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদেরই বহন করতে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

দলমতের ঊর্ধ্বে ঢাকা-৪ আসনে ৩৩৪ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিলেন জামায়াত এমপি

দলমতের ঊর্ধ্বে ঢাকা-৪ আসনে ৩৩৪ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিলেন জামায়াত এমপি

 "ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকা-৪ আসনের ৩৩৪টি অসহায় পরিবারের মাঝে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে ১০ লাখ ২ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন জামায়াত এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২৩:১০

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকা-৪ সংসদীয় আসনের ৩৩৪টি অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে মোট ১০ লাখ ২ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর জুরাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে এই নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

যেভাবে বরাদ্দ বণ্টন করা হলো: অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন জানান, এবারের ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে প্রতিটি সংসদীয় আসনের জন্য ১০ লাখ টাকা করে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে ৩৩৩টি পরিবারের মাঝে ৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা বণ্টনের পর ১ হাজার টাকা অবশিষ্ট থাকে। পরে সেই ১ হাজার টাকার সাথে তিনি নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আরও ২ হাজার টাকা যুক্ত করে মোট ৩৩৪টি পরিবারের মাঝে এই ১০ লাখ ২ হাজার টাকা বিতরণ করেন।

দলমতের ঊর্ধ্বে সেবা প্রদানের অঙ্গীকার: ঢাকা-৪ এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক বেশি উল্লেখ করে এই এমপি বলেন, "বরাদ্দ সীমিত থাকায় সবাইকে হয়তো একসাথে সহযোগিতা করা সম্ভব হয়নি, তবে যারা তুলনামূলক বেশি অভাবগ্রস্ত, সম্পূর্ণ দলমত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাছাই করে তাদেরকেই এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে।"

জনপ্রতিনিধি হিসেবে কোনো স্বজনপ্রীতি বা দলীয়করণ করবেন না বলে দৃঢ় ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, "নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এই সমাজের প্রতিটি নাগরিক আমার কাছে সমান। সবার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই এখন আমার প্রধান দায়িত্ব।"

ওয়ারীতে ঈদসামগ্রী বিতরণ: এদিকে, একই দিনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ওয়ারী পশ্চিম থানার উদ্যোগে স্থানীয় একটি মিলনায়তনে ২৫০টি দুস্থ পরিবারের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ করা হয়। ওয়ারী পশ্চিম থানা আমির ফারুক হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল লতিফ, জাহাঙ্গীর হোসেন ও হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

জুলাই সনদের আলোকে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফেরাতে সংসদে সংশোধন প্রয়োজন: বদিউল আলম

জুলাই সনদের আলোকে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফেরাতে সংসদে সংশোধন প্রয়োজন: বদিউল আলম

 "নির্বাচন ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে ছাত্র-জনতার জুলাই সনদের আলোকে সংসদে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২৩:০০

ছবি: ফাইল ছবি / সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে সত্যিকারের কার্যকর, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে অবিলম্বে জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে। আর এই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গঠিত হতে হবে ছাত্র-জনতার ‘জুলাই সনদ’-এর আলোকে।

এমনটিই দাবি করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মেট্রোপলিটন চেম্বারে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আদালতের রায়ে সন্তোষ ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান: সংবাদ সম্মেলনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাম্প্রতিক রায়, সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সংসদীয় কাঠামোর ভেতর দিয়ে এর স্থায়ী সমাধান হওয়া জরুরি।

অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য দেশের রাজনীতিবিদদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে সুজন সম্পাদক বলেন, "দেশের সাধারণ জনগণ ইতোমধ্যে জুলাই সনদের পক্ষে নিজেদের রায় বা ম্যান্ডেট দিয়ে দিয়েছে। বর্তমান সরকারের উচিত জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি পূর্ণ সম্মান দেখিয়ে এই রায়টি বিনাদ্বিধায় মেনে নেওয়া।" আগামী দিনে এই নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার প্রধান কে হবেন, তা বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদই নির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংকটের দায় এড়াতে পারে না সুপ্রিম কোর্ট: একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া বিগত দিনের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সংকটের পেছনের কারণগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মূলত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বেআইনিভাবে বাতিলের মধ্য দিয়েই দেশে দীর্ঘ ১৬ বছরের চরম স্বৈরতান্ত্রিক শাসনকাঠামোর গোড়াপত্তন হয়েছিল।

এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের পেছনে সেসময়ের দলীয় মানসিকতার বিচারকদের দেওয়া রায়কেই সরাসরি দায়ী করেন ড. শরীফ ভূঁইয়া। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এর ঐতিহাসিক দায় কোনোভাবেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্ট এড়াতে পারে না।

আমাদের ঘাড়ে কারও আধিপত্য মানব না’, চীনা রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিতে কড়া বার্তা জামায়াত আমিরের

আমাদের ঘাড়ে কারও আধিপত্য মানব না’, চীনা রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিতে কড়া বার্তা জামায়াত আমিরের

"রাজধানীর মিরপুরে চীনা রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের ওপর কারও আধিপত্য বা খবরদারি মেনে নেওয়া হবে না।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২২:৫৫

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের ওপর কোনো বিদেশি শক্তির আধিপত্য বা খবরদারি মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর মিরপুরে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে চীনের সহায়তায় ‘ফুড প্যাক’ বা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন।

আধিপত্যবাদীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি: ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, "আমরা কোনোভাবেই আমাদের ঘাড়ে কারও আধিপত্য মেনে নেব না। আমাদের দেশের সচেতন ও আত্মমর্যাদাশীল যুবসমাজ এটি কখনোই সহ্য করবে না। তারা মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায় এবং সারা বিশ্বের বুকে বুক ফুলিয়ে নিজেদের গর্বিত বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিতে চায়।"

চীনের প্রশংসা ও বিগত সরকারের সমালোচনা: চীনের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘ ৫০ বছরের বন্ধুত্বপূর্ণ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ১৯৭৫ সালে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির পর থেকে চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে। অন্যান্য দেশের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, "অনেকে আমাদের দেশকে কিছুই না দিয়ে উল্টো সবকিছু কেড়ে নেয় এবং পান থেকে চুন খসলেই যখন-তখন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু চীন কখনোই তা করে না, তারা সবসময় প্রকৃত বন্ধুর পরিচয় দিয়ে এসেছে।"

বিগত সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, "অনুষ্ঠানের এই হলরুমটি সম্পূর্ণ চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশের জন্য একটি উপহার ছিল। এখানে আমাদের কোনো টাকা নেই। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার চরম অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে এই বন্ধুত্বের নিদর্শনটি হাইজ্যাক করেছিল। তারা একটি দেশের ভালোবাসার উপহারের নাম-নিশানা মুছে দিয়ে সেখানে তাদের বাপের নাম লিখে দিয়েছিল।"

চীনা রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য ও প্রত্যাশা: অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, "ঈদ হলো ভালোবাসা, আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উৎসব। আপনাদের ঈদের প্রস্তুতিতে কিছুটা সহায়তা করতেই আমরা এই উপহারগুলো নিয়ে এসেছি।"

এ সময় তিনি বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ডা. শফিকুর রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। চীনা রাষ্ট্রদূত প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী ও ডা. শফিকুর রহমান পূর্ণ সমর্থন জোগাবেন। বাংলাদেশের মুসলিম ভাই-বোনেরা একটি নতুন, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে অংশীদার হবে বলেও তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে ফের রাজপথে নামবে ছাত্র-জনতা: জামায়াত

গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে ফের রাজপথে নামবে ছাত্র-জনতা: জামায়াত

 "গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামবে বলে বর্তমান সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াত নেতা আব্দুস সবুর ফকির।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২২:৪৫

ছবি: সংগৃহীত


সংবিধান কিংবা আদালতের দোহাই দিয়ে ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করা হলে দেশের ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নেমে আসবে বলে বর্তমান সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর শাহজাহানপুর পূর্ব থানা জামায়াতের উদ্যোগে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।

সরকারের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা: বর্তমান বিএনপি সরকারের কড়া সমালোচনা করে আব্দুস সবুর ফকির বলেন, "যেই রাষ্ট্রপতিকে এই সরকার এত সম্মান ও কদর করে, সেই রাষ্ট্রপতির জারি করা ‘জুলাই অধ্যাদেশ’ই তারা মানতে নারাজ!" তিনি দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।

রমজানের শিক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "রমজানের অন্যতম শিক্ষা হলো কথা ও কাজে মিল রাখা। কিন্তু বর্তমান সরকার মুখে যা বলছে, বাস্তবে করছে ঠিক তার উল্টো। নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই দেশবাসীকে সংস্কারের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। জনগণ সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করলেও, ক্ষমতায় বসার পর এখন তারা আর গণভোটের রায় মানছে না।"

আদালতের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন, সরকার এখন জুলাই আদেশ ও গণভোটের রায়কে আদালতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে এগুলো বাতিলের গভীর চক্রান্ত চলছে। তিনি বলেন, "এই সরকারের উদ্দেশ্যও খারাপ। তারা বিগত আওয়ামী লীগের মতোই দেশের সাধারণ মানুষকে শাসন ও শোষণ করতে চায়। আর এ কারণেই তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে।"

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ছাত্র-জনতা রাজপথে নামলে আবারও রক্তপাত ও প্রাণহানি ঘটবে, যা জাতি কখনো প্রত্যাশা করে না। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই জামায়াত সংসদে গেছে। সরকার সঠিক পথে থাকলে দলটির পূর্ণ সহযোগিতা পাবে, কিন্তু জনগণের মতামতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালে জনগণকে সাথে নিয়েই রাজপথে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান: স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশের অসংখ্য মানুষকে কেন ফুটপাতে বা বস্তিতে থাকতে হচ্ছে— এমন প্রশ্ন তুলে আব্দুস সবুর ফকির বলেন, সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বের অভাবেই আজ এই দশা। মানবসৃষ্ট আইনে কেবল ক্ষমতাসীনরাই লাভবান হয়, জনগণ হয় শোষিত। এই শোষণ থেকে মুক্তি পেতে সমাজে বৈষম্যহীন ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও শাহজাহানপুর পূর্ব থানা আমির মাওলানা শরিফুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন এবং সঞ্চালনা করেন থানা সেক্রেটারি মো. আনোয়ার হোসেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মাওলানা মোশারফ হোসাইন, থানা কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক এবং আমতলা ওয়ার্ড সভাপতি মুহাম্মদ আবু তাহেরসহ স্থানীয় নেতারা।

প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচিকে সাধুবাদ: তবে আগে ফেরাতে হবে নদীর নাব্যতা

প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচিকে সাধুবাদ: তবে আগে ফেরাতে হবে নদীর নাব্যতা

 "প্রধানমন্ত্রীর দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানানো হলেও, এর প্রকৃত সুফল পেতে দেশের প্রধান নদীগুলোর ড্রেজিং ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে।"

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশ : সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২২:৪০


একসময় বাংলাদেশ ছিল প্রকৃত অর্থেই একটি নদীমাতৃক দেশ। নদীকেন্দ্রিক যাতায়াত, পণ্য পরিবহন আর কৃষিই ছিল এ দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহের কারণে সেসময় মৎস্য সম্পদের যেমন প্রাচুর্য ছিল, তেমনি জমির উর্বরতাও বজায় থাকত। তখন ঘন ঘন বন্যা বা জলাবদ্ধতার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপও ছিল তুলনামূলক অনেক কম।

বর্তমান সংকট ও ফারাক্কার অভিশাপ: কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। একদিকে ফারাক্কা বাঁধের চরম বিরূপ প্রভাব, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রধান নদ-নদী ও খাল-বিলগুলো ক্রমাগত ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে সেই স্রোতস্বিনী নদীগুলো আজ মৃতপ্রায়। এখন ভরা বর্ষায় নদীগুলো স্বাভাবিক পানি ধারণ করতে পারে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই অকাল বন্যা দেখা দেয় এবং বড় বড় শহর-নগর পানিতে তলিয়ে যায়। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলো মরুভূমির রূপ ধারণ করে, যার ফলে নৌচলাচল ও কৃষিকাজের জন্য ন্যূনতম পানিটুকুও পাওয়া যায় না।

নদী খননের অপরিহার্যতা: বিশ্লেষকদের মতে, এ অবস্থায় দেশকে বাঁচাতে হলে প্রধান নদীগুলোতে পর্যাপ্ত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। নদীগুলোর জীবন ফিরিয়ে আনতে সরকারকে কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী যে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে মনে রাখতে হবে, প্রধান নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে না আনলে এবং সেগুলোতে পানির প্রবাহ নিশ্চিত না হলে, শুধু খাল খনন করে দীর্ঘমেয়াদে কোনো কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: অতীতের সরকারগুলোর আমলে নদী শাসন, ড্রেজিং বা সংস্কারের নামে বরাদ্দকৃত বিশাল বাজেটে কেবল হরিলুটই হয়েছে, জনগণ এর কোনো সুফল পায়নি। কারণ সেসময় লুটপাটতন্ত্রই ছিল অলিখিত মূলনীতি। বর্তমান সরকারকে অবশ্যই সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দেশবাসীর আমানত সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সাথে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোই এখন সরকারের প্রধান দায়িত্ব। সরকার এখানে জনগণের পক্ষে একজন সৎ ব্যবস্থাপকের ভূমিকাই পালন করবে বলে প্রত্যাশা সবার।

বগুড়া-৬ উপনির্বাচন: তারেক রহমানের শূন্য আসনে বিএনপি ও জামায়াতের জোর প্রচার শুরু

বগুড়া-৬ উপনির্বাচন: তারেক রহমানের শূন্য আসনে বিএনপি ও জামায়াতের জোর প্রচার শুরু

 "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ সদর আসনের উপনির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা ও জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২২:৪০

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়া: প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল থেকেই নিজেদের দলীয় প্রতীকের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।

বিএনপির গণসংযোগ ও দোয়া: সোমবার সকাল ১০টার দিকে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় জড়ো হন বিএনপির নেতাকর্মীরা। সেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং আরাফাত রহমান কোকোসহ জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের রুহের মাগফিরাত এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত শেষে ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও দলীয় প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা। এ সময় তিনি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন। গণসংযোগে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আলী আজগর তালুকদার হেনা, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সহিদ উন নবী সালামসহ স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রচারণাকালে বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা বলেন, "বগুড়া সদর আসনটি ঐতিহাসিকভাবেই জিয়া পরিবারের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই জেলাকে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন দেখেন। উন্নয়নের সেই ধারা অব্যাহত রাখতে তিনি আমাকে তার প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করেছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এখানকার সাধারণ ভোটাররা বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমাকে বিজয়ী করবেন।"

জামায়াতের প্রচারণা ও প্রত্যয়: অন্যদিকে, একই দিন সকাল ৯টায় শহরের সেউজগাড়ী এলাকা থেকে নিজেদের নির্বাচনী প্রচার শুরু করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সেখানে মোনাজাত শেষে দলীয় প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকে ভোট চেয়ে ব্যাপক গণসংযোগ করেন। এ সময় শহর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আ স ম আব্দুল মালেক, আব্দুল হালিম বেগ, অ্যাডভোকেট আল আমিন তরফদারসহ স্থানীয় নেতারা তার সঙ্গে ছিলেন।

এক পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, "বগুড়ার সচেতন মানুষ এবার সঠিক নেতৃত্ব বেছে নিতে কোনো ভুল করবে না। তারা উন্নয়ন ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িপাল্লাতেই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।"

ঐক্য, নৈতিকতা ও মানবিক নেতৃত্বেই দেশ এগোবে: টঙ্গীতে ডা. শফিকুর রহমান

ঐক্য, নৈতিকতা ও মানবিক নেতৃত্বেই দেশ এগোবে: টঙ্গীতে ডা. শফিকুর রহমান

 "টঙ্গীতে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার অ্যালামনাই ইফতার মাহফিলে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ঐক্য, নৈতিকতা ও মানবিক নেতৃত্বেই দেশ এগোবে।"

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রকাশ : সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২২:৩০

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর: পবিত্র রমজান মাস মানুষকে আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও মানবিকতার মহান শিক্ষা দেয়। এই মূল্যবোধগুলো যদি ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত হয়, তবেই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গীতে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নৈতিকতাসম্পন্ন তরুণ প্রজন্মের আহ্বান: ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "সমাজে ঈমানদার ও মুত্তাকি মানুষের সংখ্যা যত বাড়বে, সমাজ ততটাই সুস্থ ও সুন্দর হয়ে উঠবে। এর উল্টোটা হলে সমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে।" জাতি গঠনে চরিত্রবান তরুণদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "আমাদের মেধাবী তরুণ দরকার, তবে কোনো 'ইভিল ট্যালেন্ট' বা ক্ষতিকর মেধা আমরা চাই না। আমরা এমন তরুণ প্রজন্ম চাই, যাদের অন্তরে দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকবে।"

জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণ ও অ্যালামনাইদের সাফল্য: তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের কথা স্মরণ করে জামায়াতের আমির বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি দেশপ্রেমিক ও দক্ষ নেতৃত্ব তৈরির জন্যই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। আজ এই প্রতিষ্ঠানের তিনজন গর্বিত শিক্ষার্থী জনগণের বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দেশসেবার সুযোগ পেয়েছেন, যা এই মাদরাসার সফলতারই বড় প্রমাণ। এ সময় তিনি জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া পাঁচজন ছাত্রের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "জ্ঞান অন্বেষণের কোনো বিকল্প নেই। পাঠ্যবইয়ের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রাখার পাশাপাশি নিজেদেরকে জ্ঞান, নৈতিকতা ও চরিত্রে বলীয়ান করে গড়ে তুলতে হবে।"

অতিথিবৃন্দ ও অন্যান্য আয়োজন: তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা টঙ্গী অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাওলানা আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল এহসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন পাবনা-১ আসনের এমপি ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, গাজীপুর-৪ আসনের এমপি সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী, শেরপুর-১ আসনের হাফেজ মো. রাশেদুল ইসলাম এবং নোয়াখালী-৬ আসনের আ. হান্নান মাসুদ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা টঙ্গীর অধ্যক্ষ ড. হিফজুর রহমান, ঢাকার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. খলিলুর রহমান মাদানী, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিগবাহ।

শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন আব্দুল্লাহ আল জাওয়াদ এবং পরে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করে তুরাগ শিল্পী গোষ্ঠী। অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন টঙ্গী ক্যাম্পাসের উপাধ্যক্ষ মাওলানা মিজানুর রহমান।

জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়ার সমাধিতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা নিবেদন

জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়ার সমাধিতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা নিবেদন

  "ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২২:৩০

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) তারা এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং দেশের এই দুই শীর্ষ নেতার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ঐতিহাসিক মুহূর্ত: শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, "দীর্ঘ ও কঠিন এক সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে আজ বাংলাদেশে পুনরায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে এসে উপনীত হয়েছি।"

মহান মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বেই আমরা সম্মুখ সমরে অংশ নিয়ে এ দেশকে শত্রুমুক্ত করেছিলাম। আর আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার সীমাহীন ত্যাগ ও তিতিক্ষার বিনিময়ে এই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন করেছিলেন।" আজ তাদের দুজনের রুহের মাগফিরাত কামনায় এই দোয়া করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

নিরপেক্ষতার স্বার্থে দলীয় পদত্যাগ: সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের সচেতন ও বিচক্ষণ জনগণ বিপুল ভোটে বিএনপিকে জয়যুক্ত করে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে, যা আগামী দিনে দেশের গণতন্ত্রের পথকে আরও মসৃণ ও সুগম করবে।

জাতীয় সংসদে সরকারি দল এবং বিরোধী দলের জন্য সম্পূর্ণ সমান সুযোগ ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তারা দুজন ইতিমধ্যে দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন তিনি।

শ্রদ্ধা নিবেদনের এই আনুষ্ঠানিকতায় অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সার্জেন্ট-অ্যাট-আর্মসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী, আজই নেওয়া হচ্ছে সিঙ্গাপুরে

মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী, আজই নেওয়া হচ্ছে সিঙ্গাপুরে

  "রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে দেখতে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আজ সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

ছবি: পিএমও / সংগৃহীত

 হঠাৎ অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে দেখতে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজের পর হাসপাতালে গিয়ে তিনি মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসের শয্যাপাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত সিঙ্গাপুরে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। তখন হাসপাতালে মির্জা আব্বাসের স্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসসহ কর্তব্যরত চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মির্জা আব্বাসের উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের নিউরোসায়েন্স বিভাগে তাকে ভর্তি করার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (১১ মার্চ) রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে মির্জা আব্বাসকে দ্রুত বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সংসদে জামায়াতের দাবি পূরণ: শোকপ্রস্তাবে যুক্ত হলো নিজামী-সাঈদীসহ শীর্ষ নেতাদের নাম

সংসদে জামায়াতের দাবি পূরণ: শোকপ্রস্তাবে যুক্ত হলো নিজামী-সাঈদীসহ শীর্ষ নেতাদের নাম

 "ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিরোধী দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ বেশ কয়েকজন নেতার নাম শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করা হয়েছে।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২২:৩৫

ছবি:সংগৃহীত /দৈনিক সংগ্রাম

 ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই একটি তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবির মুখে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও আবদুল কাদের মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন প্রয়াত বর্ষীয়ান নেতার নাম সংসদের আনুষ্ঠানিক শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

যেভাবে দাবি উত্থাপন করা হয়: বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের প্রথম দিনের কার্যপ্রণালী চলাকালে বিরোধীদলীয় উপনেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই বিশেষ দাবিটি তুলে ধরেন। স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি জানান, অতীতে যারা মন্ত্রী বা গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দেশের রাজনীতি ও সমাজ গঠনে যাদের অনস্বীকার্য অবদান রয়েছে, তাদের নামগুলো রাষ্ট্রীয় এই শোকপ্রস্তাবে সম্মানের সাথে থাকা প্রয়োজন।

যেসব নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়: নিজের দাবির সপক্ষে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের যে নামগুলো স্পিকারের কাছে প্রস্তাব করেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন— জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, আবদুল কাদের মোল্লা, মাওলানা আবদুস সোবহান এবং মাওলানা এ কে এম ইউসুফ।

এর পাশাপাশি শরিফ ওসমান হাদি, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আনসার আলী, প্রিন্সিপাল আবদুল খালেক মণ্ডল, হাফেজা আসমা খাতুন, রোকেয়া আনসার, সুলতানা রাজিয়া এবং রাশেদা খাতুনের নামও তিনি উল্লেখ করেন। শুধু এই নেতাদের নামই নয়, সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের মর্মান্তিক ঘটনায় যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের নামও শোকপ্রস্তাবে স্থান দেওয়ার জোর দাবি জানান এই জামায়াত নেতা।

স্পিকারের সম্মতি: বিরোধীদলীয় উপনেতার এই যৌক্তিক দাবির প্রতি তাৎক্ষণিক ইতিবাচক সাড়া দেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি সংসদকে নিশ্চিত করে জানান যে, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা প্রতিটি নামই জাতীয় সংসদের শোকপ্রস্তাবে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন

সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন

"ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিদায়ী ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২২:২০

ছবি: সংগৃহীত/বাসস

সদ্য বিদায়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে জারি হওয়া মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে তোলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।

আইনি বাধ্যবাধকতা: দেশের বিদ্যমান আইনি বিধান ও সংসদীয় রীতিনীতি অনুসারে, জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলমান না থাকা অবস্থায় যেসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়, তা আবশ্যিকভাবে পরবর্তী সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই উপস্থাপন করার নিয়ম রয়েছে। মূলত সেই বাধ্যবাধকতা মেনেই আজ এগুলো সংসদে তোলা হয়।

আইন পাসের পরবর্তী ধাপ: সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান সরকার যদি এই অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে পরিণত করতে চায়, তবে বিল আকারে প্রণয়নের জন্য এগুলো প্রথমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে পাঠানো হবে। এরপর সেখান থেকে মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন নেওয়া হবে।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং (যাচাই-বাছাই) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এই সমস্ত আইনি ধাপ পার হওয়ার পর চূড়ান্তভাবে আইন হিসেবে পাস করার জন্য বিলগুলোকে পুনরায় সংসদে উত্থাপন করা হবে।

গণতন্ত্র সুসংহত করতে সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ড. মোশাররফের

গণতন্ত্র সুসংহত করতে সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ড. মোশাররফের

 "ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্বকালে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সকল সংসদ সদস্যকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রবীণ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২১:০০

ছবি: সংগৃহীত

 দেশের পুনরুদ্ধার হওয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করতে দলমত নির্বিশেষে সকল সংসদ সদস্যকে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঐতিহাসিক প্রথম অধিবেশনে সভাপতির (স্পিকার) আসনে বসে দেওয়া দিকনির্দেশনামূলক ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান।

নতুন সংসদকে স্বাগত ও গুরুদায়িত্ব স্মরণ: উদ্বোধনী ভাষণে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের স্বাগত ও উষ্ণ অভিনন্দন জানান ড. মোশাররফ। তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত এই নতুন সংসদ দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হয়ে আসা জনপ্রতিনিধিদের কাঁধে এখন দেশসেবার বিশাল দায়িত্ব ন্যস্ত। সংসদে সবার সক্রিয় ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণই দেশের গণতন্ত্রের এই নবযাত্রাকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন: বক্তব্যের শুরুতেই তিনি মহান ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং দীর্ঘ গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে জীবন উৎসর্গকারী সকল বীর শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের এই চরম আত্মত্যাগ পুরো জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার রক্ষা করতে হলে অবিরাম সংগ্রাম ও অঙ্গীকারের কোনো বিকল্প নেই।

সরকার ও বিরোধী দলকে অভিনন্দন: নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানকেও শুভেচ্ছা জানান ড. মোশাররফ। একইসঙ্গে দেশের সংসদীয় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকেও আন্তরিক অভিনন্দন জানান তিনি।

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ: ভাষণে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক এবং দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক হিসেবে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন প্রবীণ এই নেতা। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ আপসহীন রাজনৈতিক সংগ্রাম, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কারাবরণ এবং দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনে তার অসামান্য অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

নতুন সংসদের প্রতি প্রত্যাশা: নতুন সংসদের ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে ড. মোশাররফ বলেন, বিগত দিনের সকল মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সুসংহত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ও নিরপেক্ষ ইতিহাস সংরক্ষণের মাধ্যমে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে এই সংসদকে কাজ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতার মাধ্যমে ত্রয়োদশ সংসদ দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রায় একটি গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই সংসদ জনগণের, অধিকার লুণ্ঠনকারীদের নয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এই সংসদ জনগণের, অধিকার লুণ্ঠনকারীদের নয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 "ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের এই সংসদ জনগণের। গত দেড় দশক ধরে সংসদকে অধিকার লুণ্ঠনকারীদের ক্লাবে পরিণত করা হয়েছিল।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২০:৪৫

ছবি: প্রধানমন্ত্রী/সংগৃহীত

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে এ দেশের সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, "আজকের এই সংসদ বাংলাদেশের আপামর জনগণের সংসদ। দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতান্ত্রিক মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে এই মহান সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে।"

স্পিকার পুরো সংসদের অভিভাবক: বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকারের বক্তব্যের পর শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। নবনির্বাচিত স্পিকারকে পুরো সংসদের 'অভিভাবক' হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, আজ থেকে স্পিকার আর নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের নন। দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে সংসদকে অর্থবহ করে তুলতে সংসদ পরিচালনার ক্ষেত্রে স্পিকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।

অতীতের সমালোচনা ও বর্তমানের স্বস্তি: বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সংসদ নেতা বলেন, গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের মানুষের সব ধরনের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। দেশের জনগণকে একটি ক্ষমতাহীন ও দুর্বল জনগোষ্ঠীতে পরিণত করার পাশাপাশি এই সংসদকে বানানো হয়েছিল মানুষের অধিকার লুণ্ঠনকারীদের একটি ক্লাবে।

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, বিগত ১৫ বছরে যারা নিজেদের সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে পরিচয় দিয়ে এসেছেন, তাদের কেউই জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ছিলেন না। কিন্তু আজকের এই ত্রয়োদশ সংসদ সম্পূর্ণভাবে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রকৃত জনপ্রতিনিধিদের সংসদ।

গঠনমূলক বিতর্কের আহ্বান: শুধুমাত্র বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না করে, সুনির্দিষ্ট যুক্তি ও গঠনমূলক বিতর্কের মাধ্যমে এই সংসদকে প্রাণবন্ত ও কার্যকর করে তোলার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ক্ষেত্রে স্পিকারের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নতুন ও গুরুদায়িত্ব গ্রহণের জন্য নবনির্বাচিত স্পিকারকে সকল সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার ও বিরোধী দল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে: স্পিকার

জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার ও বিরোধী দল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে: স্পিকার

 "ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ আশা প্রকাশ করেছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার ও বিরোধী দল সংসদে একসঙ্গে কাজ করবে।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২০:৪৫

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জনগণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকার এবং বিরোধী দল সংসদে একসঙ্গে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে নতুন সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতির প্রথম ভাষণে তিনি এই প্রত্যাশার কথা জানান।

মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের সংগ্রাম: স্পিকার তার বক্তব্যে বলেন, সংসদ হলো মূলত গণতন্ত্রের চেতনার মূল প্রতিচ্ছবি এবং এ দেশের সাধারণ মানুষ বরাবরই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করেছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক সেই মুক্তিযুদ্ধ ছিল মূলত জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এক সুদীর্ঘ সংগ্রাম। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে শুরু হওয়া সশস্ত্র সেই সংগ্রাম পুরো জাতিকে একতাবদ্ধ করেছিল এবং ছাত্র-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘ নয় মাসের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

তবে বিভিন্ন সময়ে দেশের গণতন্ত্র কীভাবে ব্যাহত হয়েছে, সে কথাও তুলে ধরেন স্পিকার। তিনি জানান, ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে গণতন্ত্রকে কার্যত কবর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ কখনো স্বৈরাচারের কাছে মাথানত করেনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও নিরপেক্ষ নির্বাচন: সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন নিশ্চিত হয়েছে। এ সময় তিনি ওই অভ্যুত্থানের বীর শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ সবার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দেখা দশটি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে এটিকে তিনি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

স্পিকারের নিরপেক্ষতা ও আহ্বান: স্পিকার হিসেবে নিজের শতভাগ নিরপেক্ষতা প্রমাণের কথা উল্লেখ করে তিনি সংসদকে জানান, দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে তিনি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বিরোধী দলকে সংসদে অর্থবহ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হবে বলেও সবাইকে আশ্বস্ত করেন তিনি।

সবশেষে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতিকে ধারণ করে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য— সমতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল সংসদ সদস্যকে কাজ করার আহ্বান জানান স্পিকার।

জনগণের আস্থার কেন্দ্র হবে সংসদ, কোনো আপস নয়: প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জনগণের আস্থার কেন্দ্র হবে সংসদ, কোনো আপস নয়: প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 "ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রক্তস্নাত এই নতুন সংসদ হবে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু।"

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২০:৪৫


ঢাকা: দীর্ঘ লড়াই, অসংখ্য মায়ের কান্না আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে এই ঐতিহাসিক সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, এখন থেকে এই মহান সংসদই হবে দেশের সব সমস্যার সমাধান, যৌক্তিক বিতর্ক এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

রক্তস্নাত অর্জনের স্মরণ: ফ্যাসিবাদী শাসনামলের ভয়াবহতা স্মরণ করে সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আজ এই জবাবদিহিমূলক ও প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সংসদের সূচনা হলো। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পর্যন্ত যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন তিনি। 'আয়নাঘর'-এর মতো লোমহর্ষক বন্দিশালায় নির্যাতিত এবং গুম-খুন ও মিথ্যা মামলার শিকার হওয়া আপামর জনসাধারণের অদম্য সাহসের প্রশংসাও ধ্বনিত হয় তার কণ্ঠে।

জিয়াউর রহমান ও আপসহীন নেত্রীর আদর্শ: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই মাহেন্দ্রক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা অত্যন্ত আবেগভরে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আজীবন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়া এই আপসহীন নেত্রী দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। অথচ এই বিজয়ের দিনটি তিনি দেখে যেতে পারলেন না। অন্যদিকে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কালজয়ী উক্তি— "জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তবে আমি সেই দলেই আছি"— উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্যই হলো আমজনতার জীবনমানের উন্নয়ন, নিছক দল বা ব্যক্তির স্বার্থরক্ষা নয়।

স্বনির্ভর দেশের স্বপ্ন ও ঐক্যের আহ্বান: বিএনপির টিকিটে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য ও সংসদ নেতা নির্বাচিত হওয়া তারেক রহমান জানান, সংসদে তিনি দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তোলা। একটি নিরাপদ, স্বনির্ভর ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তিনি সংসদে উপস্থিত সব দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধ সমর্থনের আহ্বান জানান।

স্পিকার নির্বাচন ও ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত: আগের পতিত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা সংসদকে পুরোপুরি অকার্যকর ও হাস্যকর একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিল। জনরোষের মুখে আগের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার আজ পলাতক অথবা কারাগারে। এই নজিরবিহীন ও বিশেষ পরিস্থিতিতে সংবিধান অনুযায়ী সংসদ পরিচালনার জন্য তিনি প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং পাঁচবারের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭৩ সালে স্বাধীন দেশের প্রথম সংসদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বর্ষীয়ান নেতা মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশকে স্পিকার হিসেবে প্রস্তাব করার ঐতিহাসিক নজিরটিও তুলে ধরেন।

জুলাই সনদের সম্মত সব বিষয়ই ধারণ করবে বিএনপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই সনদের সম্মত সব বিষয়ই ধারণ করবে বিএনপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জুলাই জাতীয় সনদের সম্মত সকল বিষয় ধারণ করবে বিএনপি। শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ও জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করবে।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ১৯:৪০

ছবি: সংগৃহীত/ফাইল ছবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, 'জুলাই জাতীয় সনদ'-এর যেসব বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার পুরোটাই বিএনপি ধারণ করবে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, "গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যেই আমরা কাজ করব এবং কথা বলব।"

সংসদীয় বৈঠক শেষে ব্রিফিং: বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি দলের সংসদীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যসূচি: আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, সংসদীয় রীতিনীতি ও বিধি মোতাবেক অধিবেশনের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। এরপর মূল অধিবেশন শুরু হলে প্রথমেই সভাপতিমণ্ডলীর (প্যানেল অব চেয়ারমেন্স) নাম ঘোষণা করা হবে। পরবর্তীতে সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন এবং তার ওপর বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

অধ্যাদেশ উপস্থাপন ও কমিটি গঠন: সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ চলতি অধিবেশন চলাকালেই আইনমন্ত্রী সংসদে উপস্থাপন করবেন। এছাড়া কার্যউপদেষ্টা কমিটিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও এই প্রথম অধিবেশনে গঠন করা হবে। প্রথম দিনেই সংসদে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

অধিবেশনের সময়কাল: অধিবেশনের সময়সূচি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শুক্রবার কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামী ১৫ মার্চ সংসদ অধিবেশন আরও একদিন চলার পর সাময়িক বিরতি বা মুলতবি দেওয়া হতে পারে।