"নির্বাচন ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে ছাত্র-জনতার জুলাই সনদের আলোকে সংসদে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।"
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২৩:০০
![]() |
| ছবি: ফাইল ছবি / সংগৃহীত |
ঢাকা: দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে সত্যিকারের কার্যকর, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে অবিলম্বে জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে। আর এই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গঠিত হতে হবে ছাত্র-জনতার ‘জুলাই সনদ’-এর আলোকে।
এমনটিই দাবি করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মেট্রোপলিটন চেম্বারে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আদালতের রায়ে সন্তোষ ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান: সংবাদ সম্মেলনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাম্প্রতিক রায়, সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সংসদীয় কাঠামোর ভেতর দিয়ে এর স্থায়ী সমাধান হওয়া জরুরি।
অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য দেশের রাজনীতিবিদদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে সুজন সম্পাদক বলেন, "দেশের সাধারণ জনগণ ইতোমধ্যে জুলাই সনদের পক্ষে নিজেদের রায় বা ম্যান্ডেট দিয়ে দিয়েছে। বর্তমান সরকারের উচিত জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি পূর্ণ সম্মান দেখিয়ে এই রায়টি বিনাদ্বিধায় মেনে নেওয়া।" আগামী দিনে এই নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার প্রধান কে হবেন, তা বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদই নির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংকটের দায় এড়াতে পারে না সুপ্রিম কোর্ট: একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া বিগত দিনের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সংকটের পেছনের কারণগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মূলত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বেআইনিভাবে বাতিলের মধ্য দিয়েই দেশে দীর্ঘ ১৬ বছরের চরম স্বৈরতান্ত্রিক শাসনকাঠামোর গোড়াপত্তন হয়েছিল।
এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের পেছনে সেসময়ের দলীয় মানসিকতার বিচারকদের দেওয়া রায়কেই সরাসরি দায়ী করেন ড. শরীফ ভূঁইয়া। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এর ঐতিহাসিক দায় কোনোভাবেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্ট এড়াতে পারে না।
