"দেশের তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ (সসাস) আয়োজিত জাতীয় প্রতিযোগিতা ‘সেরাদের সেরা সিজন-৬’ জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিজয়ীদের দেওয়া হয়েছে ২০ লাখ টাকার পুরস্কার।"
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২২:৫৫
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
ঢাকা: দেশের তরুণ প্রজন্মের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ার মহান প্রত্যয়ে সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ (সসাস) আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা ‘সেরাদের সেরা সিজন-৬’ জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
গান, অভিনয় ও আবৃত্তি— এই তিনটি ভিন্ন বিভাগে দেশব্যাপী মেধা অন্বেষণের এই বিশাল আয়োজনে অংশ নেন ১২ হাজারের বেশি প্রতিযোগী।
বাছাই প্রক্রিয়া ও সম্প্রচার: আয়োজকরা জানান, থানা, উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় এবং সবশেষে জাতীয় পর্যায়— এমন কয়েকটি কঠিন ধাপ পেরিয়ে প্রতিটি বিভাগ থেকে সেরা ১০ জন করে প্রতিযোগীকে চূড়ান্ত পর্বের জন্য বাছাই করা হয়। এই সেরা প্রতিযোগীদের নিয়ে রমজান মাসজুড়ে দেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল নাইন’ (Channel 9)-এর পর্দায় একটি বিশেষ ধারাবাহিক অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়। প্রতিদিন দুপুর আড়াইটা থেকে ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত দর্শকরা মেধাভিত্তিক এই নান্দনিক আয়োজন উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় ছিলেন জনপ্রিয় আরজে টুটুল এবং টেলিভিশন পর্বগুলো পরিচালনা করেন আব্দুল্লাহিল কাফী।
দুটি গ্রুপে লড়াই ও পুরস্কার: অনলাইনে সসাসের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধনের পর পুরো প্রতিযোগিতাটি দুটি গ্রুপে বিভক্ত করে অনুষ্ঠিত হয়। 'ক' গ্রুপে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এবং 'খ' গ্রুপে নবম শ্রেণি থেকে মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এবারের আয়োজনে বিজয়ীদের উৎসাহ দিতে মোট ২০ লাখ টাকার বিশাল পুরস্কার তহবিল গঠন করা হয়। এর মধ্যে চূড়ান্ত চ্যাম্পিয়ন পেয়েছেন নগদ ১ লাখ টাকা, প্রথম রানারআপ ৭৫ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপ পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিটি বিভাগের সেরা ১০ জনকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
আয়োজকদের বক্তব্য ও নেপথ্যের কারিগর: ‘সেরাদের সেরা সিজন-৬’-এর সফল এই আয়োজনে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এইচ এম আবু মুসা এবং সার্বিক পরিচালক ছিলেন জাকির হোসাইন। ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন ইসরাইল হোসেন শান্ত। এছাড়া আলিফ নুর, ইবনে বাশার আরাফ, তানভির আহমেদ শিবলীসহ আরও বেশ কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রমে অনুষ্ঠানটি সফলতা পায়।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান সসাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, "সংস্কৃতি কোনো বিলাসিতা নয়, এটি একটি জাতির আত্মার প্রতিচ্ছবি।" তাদের মতে, এটি নিছক কোনো প্রতিযোগিতা নয়; বরং প্রতিভা, নৈতিকতা এবং শুদ্ধ শিল্পচর্চার এক বিশাল প্ল্যাটফর্ম। এখান থেকেই ভবিষ্যতে এমন সব গুণী শিল্পী উঠে আসবেন, যারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন।
