আমাদের ঘাড়ে কারও আধিপত্য মানব না’, চীনা রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিতে কড়া বার্তা জামায়াত আমিরের

"রাজধানীর মিরপুরে চীনা রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের ওপর কারও আধিপত্য বা খবরদারি মেনে নেওয়া হবে না।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২২:৫৫

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের ওপর কোনো বিদেশি শক্তির আধিপত্য বা খবরদারি মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর মিরপুরে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে চীনের সহায়তায় ‘ফুড প্যাক’ বা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন।

আধিপত্যবাদীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি: ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, "আমরা কোনোভাবেই আমাদের ঘাড়ে কারও আধিপত্য মেনে নেব না। আমাদের দেশের সচেতন ও আত্মমর্যাদাশীল যুবসমাজ এটি কখনোই সহ্য করবে না। তারা মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায় এবং সারা বিশ্বের বুকে বুক ফুলিয়ে নিজেদের গর্বিত বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিতে চায়।"

চীনের প্রশংসা ও বিগত সরকারের সমালোচনা: চীনের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘ ৫০ বছরের বন্ধুত্বপূর্ণ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ১৯৭৫ সালে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির পর থেকে চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে। অন্যান্য দেশের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, "অনেকে আমাদের দেশকে কিছুই না দিয়ে উল্টো সবকিছু কেড়ে নেয় এবং পান থেকে চুন খসলেই যখন-তখন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু চীন কখনোই তা করে না, তারা সবসময় প্রকৃত বন্ধুর পরিচয় দিয়ে এসেছে।"

বিগত সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, "অনুষ্ঠানের এই হলরুমটি সম্পূর্ণ চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশের জন্য একটি উপহার ছিল। এখানে আমাদের কোনো টাকা নেই। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার চরম অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে এই বন্ধুত্বের নিদর্শনটি হাইজ্যাক করেছিল। তারা একটি দেশের ভালোবাসার উপহারের নাম-নিশানা মুছে দিয়ে সেখানে তাদের বাপের নাম লিখে দিয়েছিল।"

চীনা রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য ও প্রত্যাশা: অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, "ঈদ হলো ভালোবাসা, আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উৎসব। আপনাদের ঈদের প্রস্তুতিতে কিছুটা সহায়তা করতেই আমরা এই উপহারগুলো নিয়ে এসেছি।"

এ সময় তিনি বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ডা. শফিকুর রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। চীনা রাষ্ট্রদূত প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী ও ডা. শফিকুর রহমান পূর্ণ সমর্থন জোগাবেন। বাংলাদেশের মুসলিম ভাই-বোনেরা একটি নতুন, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে অংশীদার হবে বলেও তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।