দুর্ঘটনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দুর্ঘটনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: নিহতদের লাশ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিল জামায়াত

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: নিহতদের লাশ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিল জামায়াত

 "কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহতদের লাশ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সার্বিক তদারকিতে গঠন করা হয়েছে সমন্বয় কমিটি।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬, ১৯:৫০

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা: কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ১২ হতভাগ্য যাত্রীর লাশ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার মানবিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামী।

সমন্বয় কমিটি গঠন ও হাসপাতালে পরিদর্শন: অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়িতে করে নিহতদের মরদেহ তাদের ঠিকানায় পাঠানো এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে দলটির পক্ষ থেকে একটি বিশেষ সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। সার্বিক তদারকির জন্য কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামরুজ্জামান সোহেলকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর আহত ও নিহতদের খোঁজখবর নিতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এবং মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা মাহবুবুর রহমান।

জামায়াত নেতার ক্ষোভ ও দাবি: এর আগে, দুর্ঘটনার পরপরই শনিবার দিবাগত রাতে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা।

সেখানে তীব্র ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে মহানগর জামায়াতের আমির বলেন, "ঘটনাস্থলে কোনো গেটম্যান বা নাইট গার্ড উপস্থিত না থাকার কারণেই এত বড় একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এমন প্রাণহানি রোধে রেলক্রসিংগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।" তিনি এই ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জোর দাবি জানান এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড লেভেল ক্রসিং এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী ‘মামুন পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের এই সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ১২ জনের মৃত্যু হয় এবং অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হন।

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: নিহতদের পরিবারকে ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, বরখাস্ত ২ গেটম্যান

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: নিহতদের পরিবারকে ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, বরখাস্ত ২ গেটম্যান

 "কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী। অবহেলার দায়ে ২ গেটম্যান বরখাস্ত।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬, ১৯:৪০

ছবি: বাসস / সংগৃহীত

কুমিল্লা: কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড রেলক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে রেলওয়ের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।

রোববার (২২ মার্চ) মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত ও নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়া শেষে তিনি এ কথা জানান।

ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা: রেলপথ প্রতিমন্ত্রী জানান, রেলওয়ের ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: এই দুর্ঘটনায় রেলওয়ের কারো গাফিলতি সহ্য করা হবে না মর্মে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তিনি বলেন, "প্রাথমিক তদন্তে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় ইতোমধ্যে দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্টেশন মাস্টারকেও জবাবদিহির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে একটি বিভাগীয় ও একটি জোনাল তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

দুর্ঘটনা রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকারের তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংয়ে আন্ডারপাস বা ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। দ্বিতীয়ত, বিদ্যমান লেভেল ক্রসিংগুলোকে পর্যায়ক্রমে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে, যাতে ট্রেন আসার আগেই গেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া ক্রসিংয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক গার্ডও নিয়োজিত থাকবে।

যারা উপস্থিত ছিলেন: রোববার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে ঢাকাগামী ‘চট্টগ্রাম মেইল’ এবং লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ বাসের মুখোমুখি এই সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে।

দুর্ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় রেলপথ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবুসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: গভীর শোক প্রধানমন্ত্রীর, দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: গভীর শোক প্রধানমন্ত্রীর, দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ

 "কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটা দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬, ১৯:৩০

ছবি: ফাইল ছবি / পিএমও

ঢাকা: কুমিল্লার রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষ এবং সম্প্রতি দেশের অন্যান্য স্থানে ঘটা মর্মান্তিক সড়ক ও সেতু দুর্ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার দিবাগত রাতে ঘটা কুমিল্লা দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করতে তিনি তাৎক্ষণিক নির্দেশ দিয়েছেন।

রোববার (২২ মার্চ) এক বিশেষ শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত কমিটি গঠন ও আল্টিমেটাম: সম্প্রতি বগুড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কুমিল্লায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল। এর কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি এবং কুমিল্লা জেলা প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করেছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই দুর্ঘটনায় যাদের চরম অবহেলা ও ব্যর্থতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে দায়িত্বে অবহেলার কারণে কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

আহতদের চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা: কুমিল্লা ছাড়াও ফেনী, হবিগঞ্জ ও জামালপুর সেতু দুর্ঘটনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে একাধিকবার কথা বলেছেন। এসব দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সমবেদনা ও জননিরাপত্তায় জিরো টলারেন্স: পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের এই আনন্দঘন মুহূর্তে এমন প্রাণহানির ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, "প্রতিটি জীবনই মূল্যবান এবং প্রতিটি মৃত্যুই আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।" তিনি মহান আল্লাহর দরবারে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

জননিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না। রেলক্রসিংয়ের ব্যবস্থাপনা, সেতুর নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থার ত্রুটিগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে জরুরি ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

৫ বছরে ৪ কোটি নারীর হাতে পৌঁছাবে ফ্যামিলি কার্ড: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

৫ বছরে ৪ কোটি নারীর হাতে পৌঁছাবে ফ্যামিলি কার্ড: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 "নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ৫ বছরে দেশের ৪ কোটি পরিবার এই সুবিধা পাবে।"

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ১৭:৪৫

ছবি: পিআইডি / সংগৃহীত

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের চার কোটি পরিবারকে 'ফ্যামিলি কার্ড' সুবিধার আওতায় নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার এই যুগান্তকারী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও উপস্থিতি: মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ড. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড: উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। তাই নারীদের শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা ছাড়া বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে সারা দেশের ১৪টি স্থানে বা উপজেলায় এই কর্মসূচির কাজ শুরু হয়েছে, যেখানে এই মুহূর্তে প্রায় ৩৭ হাজার নারী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে শুধু রাজধানীর কড়াইল, ভাসানটেক এবং সাততলা বস্তি এলাকার প্রায় ১৫ হাজার নারীকে আজ এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন: নির্বাচনী ইশতেহারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "নির্বাচনের সময় আমরা জনগণকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সরকার গঠনের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই তা বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। এ জন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।"

জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের কাছে দায়বদ্ধ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আজকের দিনটি একটি ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় দিন। সরকার সব সময় জনগণের কাছে নিজের কাজের জবাবদিহি করতে বাধ্য।

নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: দগ্ধ ৩, একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: দগ্ধ ৩, একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

 "নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় গ্যাস পাইপলাইন লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৩ জন দগ্ধ হয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আশপাশের কয়েকটি বাড়ি।"

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রকাশ : শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২:৪৫


নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের নিচতলায় তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন লিকেজ থেকে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অন্তত তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ওই ভবনসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতি: শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ৮টার দিকে দেওভোগ এলাকায় আরমান মিয়ার মালিকানাধীন তিনতলা ভবনের নিচতলায় থাকা একটি ঝুটের গুদামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতোই সেখানে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে ভবনের নিচতলার দেয়াল, দরজা ও জানালার বড় একটি অংশ ধসে পড়ে এবং চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

বিস্ফোরণের জেরে আশপাশের অন্তত চারটি বাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ে এবং দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। এতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহতদের অবস্থা: এই মর্মান্তিক ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন ঝুট ব্যবসায়ী শিপন, তার কর্মচারী লিটন এবং ওই ভবনেরই ভাড়াটিয়া ছগির। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিপন ও লিটনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করেন।

ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য ও উদ্ধারকাজ: প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে থেকেই ওই এলাকায় গ্যাসের তীব্র গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। খবর পেয়ে মন্ডলপাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মন্ডলপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহজাহান জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিতাস গ্যাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে গুদামের ভেতরে গ্যাস জমে ছিল। কোনোভাবে আগুনের সংস্পর্শে আসাতেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।” তিনি আরও জানান, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং ভবনের গ্যাস সংযোগ ও পাইপলাইনের বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর ক্ষোভ: এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস পাইপলাইনের কারণে ওই এলাকায় প্রায়ই লিকেজের ঘটনা ঘটছে, যা যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। তারা অবিলম্বে ত্রুটিপূর্ণ গ্যাস লাইন সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

বড়াইগ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: কৃষকের স্বপ্ন ভস্মীভূত, পুড়ে মরল ৫টি গবাদিপশু

বড়াইগ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: কৃষকের স্বপ্ন ভস্মীভূত, পুড়ে মরল ৫টি গবাদিপশু

 "নাটোরের বড়াইগ্রামে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কৃষক ইয়াছিন আলীর গোয়ালঘর ভস্মীভূত। আগুনে পুড়ে মারা গেছে দুটি গরু ও তিনটি ছাগল। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ।"

বড়াইগ্রাম নাটোর সংবাদদাতা

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ২০:১০

বড়াইগ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: কৃষকের স্বপ্ন ভস্মীভূত, পুড়ে মরল ৫টি গবাদিপশু

বড়াইগ্রাম (নাটোর): নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় গভীর রাতে ঘটা এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ইয়াছিন আলী নামের এক কৃষকের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনে তার বসতবাড়ির রান্নাঘর ও গোয়ালঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হওয়ার পাশাপাশি দুটি বড় আকৃতির গরু এবং তিনটি ছাগল জীবন্ত পুড়ে মারা গেছে।

ঘটনার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের অন্তর্গত আটঘড়ি ভবানিপুর গ্রামে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মশার কয়েল থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ির লোকজন কোনোমতে নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে পারলেও, গোয়ালঘরে থাকা পশুগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এই অগ্নিকাণ্ডে ওই কৃষকের আনুমানিক তিন থেকে চার লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সর্বস্বান্ত কৃষকের আর্তনাদ: আগুনে পুড়ে সব হারানো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইয়াছিন আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার এই গরু-ছাগলগুলোই ছিল বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল। এক রাতের আগুনে আমার সব শেষ হয়ে গেল।” অসহায় এই পরিবারটিকে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি আর্থিক সহায়তা প্রদানের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

জামায়াত নেতৃবৃন্দের পরিদর্শন: এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নাটোর জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মো. আব্দুল হাকিম। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও তার পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন, গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জোয়াড়ী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, ইউনিয়ন সেক্রেটারি ও আসন্ন ইউপি নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আইয়ুব আলী মণ্ডল এবং উপজেলা জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ মাওলানা ইব্রাহিম পাটোয়ারীসহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

চট্টগ্রামে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণ: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬

চট্টগ্রামে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণ: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬

 অনলাইন ডেস্ক 

প্রকাশ : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:২০

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জনে দাঁড়ালো।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকের বক্তব্য ও দগ্ধের অবস্থা: জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাত ৭টার দিকে আইসিইউতে ওই রোগীর মৃত্যু হয়। নিহতের শরীরের ৮৩ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল এবং তার শ্বাসনালীতেও মারাত্মক ক্ষত (ইনহেলেশন ইনজুরি) ছিল।

আগের নিহতরা ও বর্তমান পরিস্থিতি: এর আগে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে তার বড় ভাই সাখাওয়াত হোসেন, ভাই সামির হোসেন, দুই ভাবি নুরজাহান আক্তার ও পাখি আক্তার এবং ভাতিজা শাওনের মৃত্যু হয়।

ডা. শাওন বিন রহমান আরও জানান, এই ঘটনায় দগ্ধ আরও তিনজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।