কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: নিহতদের লাশ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিল জামায়াত

 "কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহতদের লাশ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সার্বিক তদারকিতে গঠন করা হয়েছে সমন্বয় কমিটি।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬, ১৯:৫০

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা: কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ১২ হতভাগ্য যাত্রীর লাশ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার মানবিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামী।

সমন্বয় কমিটি গঠন ও হাসপাতালে পরিদর্শন: অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়িতে করে নিহতদের মরদেহ তাদের ঠিকানায় পাঠানো এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে দলটির পক্ষ থেকে একটি বিশেষ সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। সার্বিক তদারকির জন্য কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামরুজ্জামান সোহেলকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর আহত ও নিহতদের খোঁজখবর নিতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এবং মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা মাহবুবুর রহমান।

জামায়াত নেতার ক্ষোভ ও দাবি: এর আগে, দুর্ঘটনার পরপরই শনিবার দিবাগত রাতে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা।

সেখানে তীব্র ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে মহানগর জামায়াতের আমির বলেন, "ঘটনাস্থলে কোনো গেটম্যান বা নাইট গার্ড উপস্থিত না থাকার কারণেই এত বড় একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এমন প্রাণহানি রোধে রেলক্রসিংগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।" তিনি এই ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জোর দাবি জানান এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড লেভেল ক্রসিং এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী ‘মামুন পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের এই সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ১২ জনের মৃত্যু হয় এবং অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হন।