ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ট্রিগারে আঙুল’ রেখে প্রস্তুত হুথি যোদ্ধারা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি

ট্রিগারে আঙুল’ রেখে প্রস্তুত হুথি যোদ্ধারা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি

 "যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং ইরানসহ অন্যান্য দেশের ওপর হামলা বন্ধ না হলে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে তারা।"

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ : শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৯:৫০

তথ্যসূত্র ও ছবি: আল জাজিরা / সংগৃহীত

সানা: গাজা যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এবার যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে হুথি যোদ্ধারা যেকোনো মুহূর্তে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত এবং তাদের ‘ট্রিগারে আঙুল’ রয়েছে বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে মোট পাঁচটি পয়েন্ট উল্লেখ করে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি অবিলম্বে ইরান, লেবাননসহ ‘প্রতিরোধের অক্ষভুক্ত’ দেশগুলোর সাথে সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সাড়া দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানান।

হুথিদের প্রধান দাবি ও বক্তব্য: হুথি মুখপাত্র বলেন, ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরাক এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই আগ্রাসন সম্পূর্ণ অন্যায়, নিপীড়নমূলক এবং অযৌক্তিক। এর ফলে শুধু বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাই বিঘ্নিত হচ্ছে না, চরম ক্ষতির মুখে পড়ছে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি।

একই সাথে তিনি গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ দেওয়া এবং ফিলিস্তিনিদের বৈধ অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। পাশাপাশি ইয়েমেনের ওপর থেকে সকল প্রকার 'অন্যায্য অবরোধ' তুলে নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

যেসব শর্তে সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে হুথিরা: বিবৃতিতে ইয়াহিয়া সারি সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন যে, নিচের পরিস্থিতিগুলো তৈরি হলে হুথি যোদ্ধারা কালবিলম্ব না করে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে অংশ নেবে:

  • যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যদি নতুন কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধে যোগ দেয়।

  • ইরান কিংবা অন্য কোনো মুসলিম দেশকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর জন্য যদি লোহিত সাগরকে ব্যবহার করা হয়।

  • ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে ‘প্রতিরোধের অক্ষের’ বিরুদ্ধে যদি সামরিক হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানো হয়।

সবশেষে, ইয়েমেনের সাধারণ জনগণের ওপর নতুন করে অবরোধ জোরদার করার যেকোনো হঠকারী বা ‘অন্যায্য পদক্ষেপের’ বিরুদ্ধেও কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন এই হুথি নেতা।

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা: ধ্বংস হলো ৩০ কোটি ডলারের থাড রাডার!

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা: ধ্বংস হলো ৩০ কোটি ডলারের থাড রাডার!

 "উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ৩০ কোটি ডলারের একটি রাডার ধ্বংস করেছে ইরান। জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়।"

অনলাইন ডেস্ক 

প্রকাশ : শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২২:৩০


তেহরান/ওয়াশিংটন: উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান। ধ্বংস হওয়া এই রাডারটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ কোটি ডলার। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে।

যেভাবে ধ্বংস হলো রাডার: ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর বিশ্লেষণ করা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে যে, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত 'এএন/টিপিওয়াই-২' রাডার এবং ব্যাটারিসহ অন্যান্য সহায়ক সরঞ্জাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। যুদ্ধের একদম শুরুর দিকেই এই সফল হামলা চালায় ইরান। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও আনুষ্ঠানিকভাবে এই সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মার্কিন সক্ষমতায় বড় ধাক্কা: বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অত্যাধুনিক রাডার ধ্বংসের ফলে ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের ব্যালিস্টিক বা ক্রুজ মিসাইল হামলা প্রতিহত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ব্লুমবার্গ তাদের প্রতিবেদনে আরও জানায়, বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া এবং গুয়ামসহ সারাবিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আটটি থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে।

বিপুল আর্থিক ক্ষতি: প্রতিরক্ষা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) তথ্য অনুযায়ী, এই থাড ব্যবস্থার একেকটি ব্যাটারির মূল্য প্রায় এক বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে শুধুমাত্র এর শক্তিশালী রাডারটির পেছনেই ব্যয় হয় প্রায় ৩০ কোটি ডলার।