বিএনপি নেতার গোয়ালঘরে মিলল ড্রামভর্তি পেট্রল, ১০ হাজার টাকা জরিমানা

 "কুড়িগ্রামের রৌমারীতে এক বিএনপি নেতার বাড়ির গোয়ালঘর থেকে ড্রামভর্তি পেট্রল উদ্ধার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অবৈধ মজুতের দায়ে পরিবারটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৯:৪৫

ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় এক বিএনপি নেতার বাড়ির গোয়ালঘর থেকে ড্রামভর্তি পেট্রল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত ও চড়া দামে বিক্রির অভিযোগে ওই নেতার পরিবারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলার দাঁতভাঙা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

যেভাবে উদ্ধার হলো পেট্রল: স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দাঁতভাঙা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবু জাহান এবং তার ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা এরশাদুল হক দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের বাড়ির গোয়ালঘরে অবৈধভাবে ড্রামভর্তি পেট্রল মজুত করে আসছিলেন। তারা এসব জ্বালানি তেল বাজারে বেশি দামে বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ ওঠে। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেলে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান।

অভিযানকালে গোয়ালঘরের ভেতর থেকে মজুতকৃত পেট্রল ও অন্যান্য তেলের ড্রাম হাতেনাতে জব্দ করা হয়। এ সময় অভিযুক্ত এরশাদুল হক বাড়িতে উপস্থিত না থাকায় 'পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬' অনুযায়ী তার পরিবারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তার ভাই হারুন অর রশিদ তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।

অভিযুক্তদের দাবি: অবৈধ মজুত ও বিক্রির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে হারুন অর রশিদ বলেন, "আমাদের নিজেদের মোটরসাইকেলে ব্যবহারের জন্যই মূলত ড্রামে করে সামান্য কিছু পেট্রল রাখা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবেশীদের কেউ পূর্বশত্রুতার জেরে প্রশাসনকে বাড়িয়ে বলেছে।"

তিনি আরও জানান, তার বাবা বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও বড় ভাই আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। বাজারে তাদের তেলের দোকান রয়েছে, তবে শুধু নিজেদের ব্যবহারের জন্যই তারা বাড়িতে তেল এনেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

প্রশাসনের বক্তব্য: এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান বলেন, "অবৈধভাবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে গোয়ালঘরে পেট্রল মজুত করার অপরাধে তেলের ড্রাম জব্দ করার পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য জড়িতদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।"