গাজীপুরে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জুয়া-মাদকের অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম

 "গাজীপুরের গাছা থানায় কৃষকদল নেতার জুয়া ও মাদকের আসরের প্রতিবাদ করায় মাহি সরকার নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা।"

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২২:৫০

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর: গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার শরীফপুর এলাকায় এক কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসা, জুয়ার আসর বসানো এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অসামাজিক কাজের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ওই নেতার অনুসারীদের বর্বরোচিত হামলায় মাহি সরকার নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।

জুয়া ও মাদকের আখড়া: স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছা থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর খাঁনপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মো. আমিরুল ইসলাম খাঁনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র চাঁদাবাজি, ইভটিজিংসহ নানা অপরাধ চালিয়ে আসছে। এই চক্রে তার দুই ছেলে সজীব ও প্রান্তসহ আরও কয়েকজন সহযোগী রয়েছে, যাদের ভয়ে এলাকাবাসী তটস্থ থাকেন। অভিযুক্তরা নিয়মিত তাদের বাড়ির সামনে ক্যারাম বোর্ড বসিয়ে জুয়ার আসর ও মাদকের বেচাকেনা চালায়। এমনকি পাশেই একটি ঘরে নারীরা পবিত্র রমজানের তারাবির নামাজ আদায় করলেও এসব বখাটেদের কারণে নামাজে চরম বিঘ্ন ঘটে।

হামলার সূত্রপাত ও শিক্ষার্থীর জখম: এলাকাবাসী জানান, গত ১০ মার্চ সন্ধ্যায় ওই স্থানে পুনরায় জুয়া ও মাদকের আসর বসলে স্থানীয়রা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাধা দিতে যান। এতে অভিযুক্তরা চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মাহি সরকার। কিন্তু হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। এতে তার মাথা, হাত ও পায়ে গভীর জখম হয়। এছাড়া তাকে লোহার রড ও পাইপ দিয়েও বেধড়ক পেটানো হয়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় মাহিকে উদ্ধার করে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ: স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, মূল অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম খাঁন অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গাছা থানা বিএনপির সভাপতি মনিরুল ইসলাম বাবুল সিপাহীর ছত্রছায়ায় তিনি কৃষকদলের সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন। এরপর থেকেই দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকায় বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। হামলার ঘটনার পর মামলা তুলে নিতে উল্টো এলাকাবাসীকে তারা নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পুলিশের কঠোর বার্তা: এ বিষয়ে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদন্ত করছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ওসি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। তবে এলাকাবাসীকে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে পুলিশের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।"