পহেলা বৈশাখে আসছে 'কৃষক কার্ড', টাঙ্গাইল থেকে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

 "আগামী পহেলা বৈশাখ টাঙ্গাইল থেকে প্রান্তিক চাষি ও খামারিদের জন্য 'কৃষক কার্ড' বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২২:৪০

ছবি: পিএমও / সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের কৃষি খাতে স্বচ্ছতা আনা এবং প্রান্তিক কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে 'কৃষক কার্ড' কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে সরকার। ওই দিন টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় কৃষকদের হাতে এই কার্ড তুলে দিয়ে যুগান্তকারী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মূলত বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে 'প্রি-পাইলটিং' প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে কৃষক কার্ড প্রণয়ন সংক্রান্ত সেলের এক বিশেষ বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

কী সুবিধা থাকছে এই কার্ডে: প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সাথে যুক্ত প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও ভূমিহীন চাষি এবং খামারিরা এই কার্ডের সুবিধা পাবেন। এটি পুরোপুরি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ডের মতো কাজ করবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা বছরে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক প্রণোদনা পাবেন, যা দিয়ে তারা অনায়াসেই সার, উন্নতমানের বীজ, কীটনাশক এবং গবাদিপশু ও মাছের খাবার কিনতে পারবেন।

প্রথম ধাপে যারা পাচ্ছেন: পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইল সদরসহ দেশের মোট ১১টি উপজেলায় একযোগে এই কার্যক্রমের সূচনা হবে। প্রথম ধাপে এই উপজেলাগুলোর মোট ২১ হাজার ৫০০ জন প্রান্তিক কৃষককে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই আর্থিক সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে।

টাঙ্গাইল সদর ছাড়া পাইলট প্রকল্পের আওতাভুক্ত অন্য ১০টি উপজেলা হলো— পঞ্চগড়ের কমলাপুর ও বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকূপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এবং মৌলভীবাজারের জুড়ী।

কৃষকদের ডিজিটাল ডেটাবেজ ও স্বচ্ছতা: সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কৃষক কার্ড বিতরণের মাধ্যমে দেশের প্রকৃত কৃষকদের একটি নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল পরিচিতি বা ডেটাবেজ তৈরি হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে কৃষি কার্যক্রমে সরকারি ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং সার ও বীজ বিতরণ ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও কার্যকর হবে। মঙ্গলবারের বৈঠকেও কৃষকদের তথ্য সংরক্ষণে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও খাদ্যমন্ত্রী আমিন উর রশীদ ইয়াসিন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।