"ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রক্তস্নাত এই নতুন সংসদ হবে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু।"
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২০:৪৫
ঢাকা: দীর্ঘ লড়াই, অসংখ্য মায়ের কান্না আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে এই ঐতিহাসিক সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, এখন থেকে এই মহান সংসদই হবে দেশের সব সমস্যার সমাধান, যৌক্তিক বিতর্ক এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
রক্তস্নাত অর্জনের স্মরণ: ফ্যাসিবাদী শাসনামলের ভয়াবহতা স্মরণ করে সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আজ এই জবাবদিহিমূলক ও প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সংসদের সূচনা হলো। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পর্যন্ত যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন তিনি। 'আয়নাঘর'-এর মতো লোমহর্ষক বন্দিশালায় নির্যাতিত এবং গুম-খুন ও মিথ্যা মামলার শিকার হওয়া আপামর জনসাধারণের অদম্য সাহসের প্রশংসাও ধ্বনিত হয় তার কণ্ঠে।
জিয়াউর রহমান ও আপসহীন নেত্রীর আদর্শ: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই মাহেন্দ্রক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা অত্যন্ত আবেগভরে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আজীবন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়া এই আপসহীন নেত্রী দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। অথচ এই বিজয়ের দিনটি তিনি দেখে যেতে পারলেন না। অন্যদিকে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কালজয়ী উক্তি— "জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তবে আমি সেই দলেই আছি"— উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্যই হলো আমজনতার জীবনমানের উন্নয়ন, নিছক দল বা ব্যক্তির স্বার্থরক্ষা নয়।
স্বনির্ভর দেশের স্বপ্ন ও ঐক্যের আহ্বান: বিএনপির টিকিটে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য ও সংসদ নেতা নির্বাচিত হওয়া তারেক রহমান জানান, সংসদে তিনি দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তোলা। একটি নিরাপদ, স্বনির্ভর ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তিনি সংসদে উপস্থিত সব দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধ সমর্থনের আহ্বান জানান।
স্পিকার নির্বাচন ও ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত: আগের পতিত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা সংসদকে পুরোপুরি অকার্যকর ও হাস্যকর একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিল। জনরোষের মুখে আগের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার আজ পলাতক অথবা কারাগারে। এই নজিরবিহীন ও বিশেষ পরিস্থিতিতে সংবিধান অনুযায়ী সংসদ পরিচালনার জন্য তিনি প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং পাঁচবারের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭৩ সালে স্বাধীন দেশের প্রথম সংসদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বর্ষীয়ান নেতা মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশকে স্পিকার হিসেবে প্রস্তাব করার ঐতিহাসিক নজিরটিও তুলে ধরেন।
