"ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ আশা প্রকাশ করেছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার ও বিরোধী দল সংসদে একসঙ্গে কাজ করবে।"
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২০:৪৫
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
ঢাকা: জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জনগণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকার এবং বিরোধী দল সংসদে একসঙ্গে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে নতুন সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতির প্রথম ভাষণে তিনি এই প্রত্যাশার কথা জানান।
মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের সংগ্রাম: স্পিকার তার বক্তব্যে বলেন, সংসদ হলো মূলত গণতন্ত্রের চেতনার মূল প্রতিচ্ছবি এবং এ দেশের সাধারণ মানুষ বরাবরই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করেছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক সেই মুক্তিযুদ্ধ ছিল মূলত জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এক সুদীর্ঘ সংগ্রাম। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে শুরু হওয়া সশস্ত্র সেই সংগ্রাম পুরো জাতিকে একতাবদ্ধ করেছিল এবং ছাত্র-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘ নয় মাসের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা অর্জিত হয়।
তবে বিভিন্ন সময়ে দেশের গণতন্ত্র কীভাবে ব্যাহত হয়েছে, সে কথাও তুলে ধরেন স্পিকার। তিনি জানান, ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে গণতন্ত্রকে কার্যত কবর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ কখনো স্বৈরাচারের কাছে মাথানত করেনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও নিরপেক্ষ নির্বাচন: সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন নিশ্চিত হয়েছে। এ সময় তিনি ওই অভ্যুত্থানের বীর শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ সবার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দেখা দশটি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে এটিকে তিনি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
স্পিকারের নিরপেক্ষতা ও আহ্বান: স্পিকার হিসেবে নিজের শতভাগ নিরপেক্ষতা প্রমাণের কথা উল্লেখ করে তিনি সংসদকে জানান, দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে তিনি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বিরোধী দলকে সংসদে অর্থবহ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হবে বলেও সবাইকে আশ্বস্ত করেন তিনি।
সবশেষে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতিকে ধারণ করে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য— সমতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল সংসদ সদস্যকে কাজ করার আহ্বান জানান স্পিকার।
