গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে ফের রাজপথে নামবে ছাত্র-জনতা: জামায়াত

 "গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামবে বলে বর্তমান সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াত নেতা আব্দুস সবুর ফকির।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২২:৪৫

ছবি: সংগৃহীত


সংবিধান কিংবা আদালতের দোহাই দিয়ে ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করা হলে দেশের ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নেমে আসবে বলে বর্তমান সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর শাহজাহানপুর পূর্ব থানা জামায়াতের উদ্যোগে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।

সরকারের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা: বর্তমান বিএনপি সরকারের কড়া সমালোচনা করে আব্দুস সবুর ফকির বলেন, "যেই রাষ্ট্রপতিকে এই সরকার এত সম্মান ও কদর করে, সেই রাষ্ট্রপতির জারি করা ‘জুলাই অধ্যাদেশ’ই তারা মানতে নারাজ!" তিনি দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।

রমজানের শিক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "রমজানের অন্যতম শিক্ষা হলো কথা ও কাজে মিল রাখা। কিন্তু বর্তমান সরকার মুখে যা বলছে, বাস্তবে করছে ঠিক তার উল্টো। নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই দেশবাসীকে সংস্কারের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। জনগণ সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করলেও, ক্ষমতায় বসার পর এখন তারা আর গণভোটের রায় মানছে না।"

আদালতের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন, সরকার এখন জুলাই আদেশ ও গণভোটের রায়কে আদালতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে এগুলো বাতিলের গভীর চক্রান্ত চলছে। তিনি বলেন, "এই সরকারের উদ্দেশ্যও খারাপ। তারা বিগত আওয়ামী লীগের মতোই দেশের সাধারণ মানুষকে শাসন ও শোষণ করতে চায়। আর এ কারণেই তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে।"

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ছাত্র-জনতা রাজপথে নামলে আবারও রক্তপাত ও প্রাণহানি ঘটবে, যা জাতি কখনো প্রত্যাশা করে না। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই জামায়াত সংসদে গেছে। সরকার সঠিক পথে থাকলে দলটির পূর্ণ সহযোগিতা পাবে, কিন্তু জনগণের মতামতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালে জনগণকে সাথে নিয়েই রাজপথে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান: স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশের অসংখ্য মানুষকে কেন ফুটপাতে বা বস্তিতে থাকতে হচ্ছে— এমন প্রশ্ন তুলে আব্দুস সবুর ফকির বলেন, সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বের অভাবেই আজ এই দশা। মানবসৃষ্ট আইনে কেবল ক্ষমতাসীনরাই লাভবান হয়, জনগণ হয় শোষিত। এই শোষণ থেকে মুক্তি পেতে সমাজে বৈষম্যহীন ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও শাহজাহানপুর পূর্ব থানা আমির মাওলানা শরিফুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন এবং সঞ্চালনা করেন থানা সেক্রেটারি মো. আনোয়ার হোসেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মাওলানা মোশারফ হোসাইন, থানা কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক এবং আমতলা ওয়ার্ড সভাপতি মুহাম্মদ আবু তাহেরসহ স্থানীয় নেতারা।