প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচিকে সাধুবাদ: তবে আগে ফেরাতে হবে নদীর নাব্যতা

 "প্রধানমন্ত্রীর দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানানো হলেও, এর প্রকৃত সুফল পেতে দেশের প্রধান নদীগুলোর ড্রেজিং ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে।"

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশ : সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২২:৪০


একসময় বাংলাদেশ ছিল প্রকৃত অর্থেই একটি নদীমাতৃক দেশ। নদীকেন্দ্রিক যাতায়াত, পণ্য পরিবহন আর কৃষিই ছিল এ দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহের কারণে সেসময় মৎস্য সম্পদের যেমন প্রাচুর্য ছিল, তেমনি জমির উর্বরতাও বজায় থাকত। তখন ঘন ঘন বন্যা বা জলাবদ্ধতার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপও ছিল তুলনামূলক অনেক কম।

বর্তমান সংকট ও ফারাক্কার অভিশাপ: কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। একদিকে ফারাক্কা বাঁধের চরম বিরূপ প্রভাব, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রধান নদ-নদী ও খাল-বিলগুলো ক্রমাগত ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে সেই স্রোতস্বিনী নদীগুলো আজ মৃতপ্রায়। এখন ভরা বর্ষায় নদীগুলো স্বাভাবিক পানি ধারণ করতে পারে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই অকাল বন্যা দেখা দেয় এবং বড় বড় শহর-নগর পানিতে তলিয়ে যায়। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলো মরুভূমির রূপ ধারণ করে, যার ফলে নৌচলাচল ও কৃষিকাজের জন্য ন্যূনতম পানিটুকুও পাওয়া যায় না।

নদী খননের অপরিহার্যতা: বিশ্লেষকদের মতে, এ অবস্থায় দেশকে বাঁচাতে হলে প্রধান নদীগুলোতে পর্যাপ্ত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। নদীগুলোর জীবন ফিরিয়ে আনতে সরকারকে কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী যে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে মনে রাখতে হবে, প্রধান নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে না আনলে এবং সেগুলোতে পানির প্রবাহ নিশ্চিত না হলে, শুধু খাল খনন করে দীর্ঘমেয়াদে কোনো কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: অতীতের সরকারগুলোর আমলে নদী শাসন, ড্রেজিং বা সংস্কারের নামে বরাদ্দকৃত বিশাল বাজেটে কেবল হরিলুটই হয়েছে, জনগণ এর কোনো সুফল পায়নি। কারণ সেসময় লুটপাটতন্ত্রই ছিল অলিখিত মূলনীতি। বর্তমান সরকারকে অবশ্যই সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দেশবাসীর আমানত সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সাথে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোই এখন সরকারের প্রধান দায়িত্ব। সরকার এখানে জনগণের পক্ষে একজন সৎ ব্যবস্থাপকের ভূমিকাই পালন করবে বলে প্রত্যাশা সবার।