কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: গভীর শোক প্রধানমন্ত্রীর, দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: গভীর শোক প্রধানমন্ত্রীর, দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ

 "কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটা দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬, ১৯:৩০

ছবি: ফাইল ছবি / পিএমও

ঢাকা: কুমিল্লার রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষ এবং সম্প্রতি দেশের অন্যান্য স্থানে ঘটা মর্মান্তিক সড়ক ও সেতু দুর্ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার দিবাগত রাতে ঘটা কুমিল্লা দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করতে তিনি তাৎক্ষণিক নির্দেশ দিয়েছেন।

রোববার (২২ মার্চ) এক বিশেষ শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত কমিটি গঠন ও আল্টিমেটাম: সম্প্রতি বগুড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কুমিল্লায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল। এর কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি এবং কুমিল্লা জেলা প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করেছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই দুর্ঘটনায় যাদের চরম অবহেলা ও ব্যর্থতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে দায়িত্বে অবহেলার কারণে কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

আহতদের চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা: কুমিল্লা ছাড়াও ফেনী, হবিগঞ্জ ও জামালপুর সেতু দুর্ঘটনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে একাধিকবার কথা বলেছেন। এসব দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সমবেদনা ও জননিরাপত্তায় জিরো টলারেন্স: পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের এই আনন্দঘন মুহূর্তে এমন প্রাণহানির ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, "প্রতিটি জীবনই মূল্যবান এবং প্রতিটি মৃত্যুই আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।" তিনি মহান আল্লাহর দরবারে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

জননিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না। রেলক্রসিংয়ের ব্যবস্থাপনা, সেতুর নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থার ত্রুটিগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে জরুরি ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে: অর্থমন্ত্রী

বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে: অর্থমন্ত্রী

 "মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বৈশ্বিক চাপের মধ্যেও সরকার দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।"

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রকাশ : রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬, ১৯:৩০

ছবি: বাসস / সংগৃহীত

চট্টগ্রাম: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং চরম বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (২২ মার্চ) চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদিবাগে নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের সাথে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানি সরবরাহ ও স্বস্তির ঈদযাত্রা: অর্থমন্ত্রী বলেন, চারপাশের এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি ঠেকানো এবং নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি এনে দিয়েছে।

যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক চাপ তৈরি হলেও সরকার দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছে। এর ফলেই এবারের ঈদযাত্রায় কোথাও জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন বন্ধ হয়নি কিংবা ভাড়াও বাড়েনি। সরকার এই স্বস্তির ধারা অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর।

সংযম ও সতর্কতার আহ্বান: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, "নতুন করে জ্বালানি তেলের উৎস খোঁজা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই চাপের মাত্রা আরও বাড়বে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত আমাদের দেশের মানুষের ওপরও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।" এই কঠিন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় তিনি দেশের জনগণকে আরও বেশি সংযমী, সহানুভূতিশীল এবং সরকারের প্রতি সহযোগিতাপূর্ণ হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

শ্রমিক অসন্তোষহীন ঈদ ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ: বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই জ্যেষ্ঠ সদস্য বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশের সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরে পাওয়ায় এবারের ঈদ সম্পূর্ণ নির্ভয়ে এবং অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে।

এবারের ঈদে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা আগেই পরিশোধ করা হয়েছে, ফলে অতীতের মতো কোনো শ্রমিক অসন্তোষ দেখা যায়নি। একে একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

পাশাপাশি তিনি বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমুখী নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের জন্য ফারমার্স কার্ড চালু করেছে। এছাড়া কৃষকদের হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ এবং দেশের ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য বিশেষ ভাতা প্রদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

দিল্লিতে জয়শঙ্করের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের বৈঠক: অভিন্ন স্বার্থে একযোগে কাজের প্রত্যয়

দিল্লিতে জয়শঙ্করের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের বৈঠক: অভিন্ন স্বার্থে একযোগে কাজের প্রত্যয়

 "নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অভিন্ন স্বার্থ নিয়ে আলোচনা হয়।"

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ : শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ২১:৫০

তথ্যসূত্র ও ছবি: বিবিসি

নয়াদিল্লি: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে ভারতের রাজধানীতে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস: বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার এই সাক্ষাৎ বেশ ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি এস জয়শঙ্করকে এই বলে আশ্বস্ত করেছেন যে, দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা এবং পারস্পরিক সুবিধাগুলো অর্জনের লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

এক্স হ্যান্ডেলে জয়শঙ্করের বার্তা: অন্যদিকে, এই বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও নিজের ভেরিফায়েড ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশের এই শীর্ষ কূটনৈতিক বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ-মিয়ানমার বিভাগের যুগ্ম সচিব বি শ্যামও উপস্থিত ছিলেন।

ঈদযাত্রীদের ওপর চরম জুলুম চলছে, দায় সরকারকে নিতে হবে: বিরোধীদলীয় নেতা

ঈদযাত্রীদের ওপর চরম জুলুম চলছে, দায় সরকারকে নিতে হবে: বিরোধীদলীয় নেতা

 "ঈদযাত্রায় ইতিহাসের জঘন্যতম অব্যবস্থাপনা ও চরম জুলুম চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি এর জন্য সরকারকে দায়ী করেছেন।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ২১:৪৫

ছবি: ফাইল ছবি / সংগৃহীত

ঢাকা: আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের ওপর চরম মাত্রায় জুলুম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এবারের ঈদযাত্রাকে তিনি ‘ইতিহাসের জঘন্যতম অব্যবস্থাপনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর পুরো দায়ভার সরকারের ওপর চাপিয়েছেন।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে এসব কথা বলেন।

ঈদযাত্রায় সীমাহীন ভোগান্তি: ডা. শফিকুর রহমান তার পোস্টে বলেন, "শহরের কর্মজীবী মানুষগুলো সারা বছর ধরে একটা বুকভরা প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করে, কবে ঈদে আপনজনদের সাথে মিলিত হবে। কিন্তু এই আনন্দযাত্রায় সাধারণ যাত্রীদের ওপর চরম জুলুম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।"

মিথ্যাচার ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ: এই চরম ভোগান্তি ও অব্যবস্থাপনার জন্য সরাসরি সরকারকে দায়ী করে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, সরকার গঠনের পরপরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন, মূলত সেটিই এই অব্যবস্থাপনার মূলভিত্তি।

তিনি অভিযোগ করেন, বাস মালিকরা ঈদের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে কম ভাড়া নিচ্ছেন বলে জনগণকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। বিষয়টিকে ‘চরম মিথ্যাচার’ বলে দাবি করে তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, সাধারণ মানুষের এই সীমাহীন দুঃখ-কষ্ট দেখার যেন কেউ নেই।

ফ্যাসিবাদ নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি: দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা প্রশ্ন তোলেন, "প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ কি তবে আবারও ফ্যাসিবাদের করাল গ্রাসে পড়তে যাচ্ছে?"

যারা নতুন করে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, জাগ্রত ছাত্র-জনতা ও যুবসমাজ তা কোনোভাবেই বরদাশত করবে না। সময় থাকতে সাবধান না হলে এর চরম পরিণতি ও দায়ভার এই বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদেরই বহন করতে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

ভেদাভেদ ভুলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

ভেদাভেদ ভুলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

 "পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে তিনি ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ২১:৪০

ছবি: ফাইল ছবি / পিএমও

ঢাকা: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই আনন্দঘন উৎসব দেশের মানুষের মাঝে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

শুক্রবার (২০ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এই শুভেচ্ছা বার্তা ও প্রত্যাশার কথা জানান।

রমজানের শিক্ষা ও আত্মশুদ্ধি: শুভেচ্ছা বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "مسلم (মুসলিম) সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় দুটি ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে ঈদুল ফিতর অন্যতম। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা ও সংযম পালনের পর এই ঈদ আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে অনাবিল আনন্দ, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের মহান বার্তা নিয়ে আসে।"

পবিত্র রমজান মাসের ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, "রমজান মাস আমাদের আত্মসংযম, খেদমত ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য শিক্ষা দেয়। এক মাসের এই কঠোর সাধনা আমাদের অন্যের দুঃখ-কষ্ট গভীরভাবে অনুভব করতে শেখায়, যার মাধ্যমে সমাজে একে অপরের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব জাগ্রত হয়। এই শিক্ষাকে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে সঠিকভাবে কাজে লাগানোই হলো ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য।"

সম্প্রীতি ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান: ঈদের এই আনন্দের দিনে সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "ঈদ আমাদের ধনী-গরিব, ছোট-বড় সব ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের এক মজবুত বন্ধনে আবদ্ধ হতে শেখায়। আসুন, আমরা সবাই মিলে সমাজের দরিদ্র মানুষের সাথে ঈদের এই আনন্দ সমানভাবে ভাগাভাগি করে নিই— এটাই হোক আমাদের আজকের অঙ্গীকার।"

ঈদের এই মহান আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে একটি মানবিক, শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।

দেশ ও উম্মাহর কল্যাণে প্রার্থনা: বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে মোনাজাত করে বলেন, "মহান রবের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন পবিত্র ঈদুল ফিতরের রহমত, বরকত ও অনাবিল আনন্দ আমাদের সবার জীবনে বর্ষণ করেন। আল্লাহ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি ও জাতিকে শান্তি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিন এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করুন।"

মসজিদে মসজিদে উপচে পড়া ভিড়: দেশ ও উম্মাহর শান্তিকামনায় জুমাতুল বিদা পালিত

মসজিদে মসজিদে উপচে পড়া ভিড়: দেশ ও উম্মাহর শান্তিকামনায় জুমাতুল বিদা পালিত

 "পবিত্র মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার সারা দেশে চরম ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জুমাতুল বিদা পালিত হয়েছে। মসজিদে মসজিদে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তিকামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ২১:৪০

ছবি: বাসস / সংগৃহীত

ঢাকা: পবিত্র মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার আজ। দেশব্যাপী চরম ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পবিত্র জুমাতুল বিদা পালিত হয়েছে। জুমার নামাজের পর মহান আল্লাহর দরবারে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর সার্বিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের ঢল: পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার হওয়ায় আজ দেশের প্রতিটি মসজিদে ছিল ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়। মূল ভবনে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক জায়গায় মুসল্লিদের মসজিদের ছাদ, আঙিনা কিংবা পাশের রাস্তায় কাতারবদ্ধ হয়ে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ সারাদেশের ছোট-বড় সব মসজিদে আজ জুমার নামাজে অংশ নেন লাখো মুসল্লি।

খুতবায় তাৎপর্য বর্ণনা: জুমার মূল নামাজ শুরু হওয়ার আগে মসজিদের খতিব ও আলেমগণ পবিত্র রমজান মাস এবং জুমাতুল বিদার বিশেষ তাৎপর্য, ফজিলত ও করণীয় নিয়ে সারগর্ভ আলোচনা পেশ করেন। এ সময় তারা রমজানের আত্মশুদ্ধির শিক্ষা বছরের বাকি ১১ মাস নিজেদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিফলিত করার উদাত্ত আহ্বান জানান।

চোখের জলে বিশেষ মোনাজাত: নামাজ শেষে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত। এ সময় মসজিদে ইতিকাফরত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিসহ সাধারণ মানুষ নিজেদের যাবতীয় গুনাহ মাফের জন্য মহান রবের কাছে আকুতি জানান। দুহাত তুলে চোখের জলে তারা মৃত পিতা-মাতা, আত্মীয়স্বজন এবং অসুস্থদের সুস্থতা কামনা করেন। একই সাথে নিজেদের পরিবার, সমাজ, প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ এবং বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত মুসলিম উম্মাহর সার্বিক শান্তি, মুক্তি ও ঐক্যের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানানো হয়।

দলমতের ঊর্ধ্বে ঢাকা-৪ আসনে ৩৩৪ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিলেন জামায়াত এমপি

দলমতের ঊর্ধ্বে ঢাকা-৪ আসনে ৩৩৪ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিলেন জামায়াত এমপি

 "ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকা-৪ আসনের ৩৩৪টি অসহায় পরিবারের মাঝে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে ১০ লাখ ২ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন জামায়াত এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২৩:১০

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকা-৪ সংসদীয় আসনের ৩৩৪টি অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে মোট ১০ লাখ ২ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর জুরাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে এই নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

যেভাবে বরাদ্দ বণ্টন করা হলো: অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন জানান, এবারের ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে প্রতিটি সংসদীয় আসনের জন্য ১০ লাখ টাকা করে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে ৩৩৩টি পরিবারের মাঝে ৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা বণ্টনের পর ১ হাজার টাকা অবশিষ্ট থাকে। পরে সেই ১ হাজার টাকার সাথে তিনি নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আরও ২ হাজার টাকা যুক্ত করে মোট ৩৩৪টি পরিবারের মাঝে এই ১০ লাখ ২ হাজার টাকা বিতরণ করেন।

দলমতের ঊর্ধ্বে সেবা প্রদানের অঙ্গীকার: ঢাকা-৪ এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক বেশি উল্লেখ করে এই এমপি বলেন, "বরাদ্দ সীমিত থাকায় সবাইকে হয়তো একসাথে সহযোগিতা করা সম্ভব হয়নি, তবে যারা তুলনামূলক বেশি অভাবগ্রস্ত, সম্পূর্ণ দলমত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাছাই করে তাদেরকেই এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে।"

জনপ্রতিনিধি হিসেবে কোনো স্বজনপ্রীতি বা দলীয়করণ করবেন না বলে দৃঢ় ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, "নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এই সমাজের প্রতিটি নাগরিক আমার কাছে সমান। সবার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই এখন আমার প্রধান দায়িত্ব।"

ওয়ারীতে ঈদসামগ্রী বিতরণ: এদিকে, একই দিনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ওয়ারী পশ্চিম থানার উদ্যোগে স্থানীয় একটি মিলনায়তনে ২৫০টি দুস্থ পরিবারের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ করা হয়। ওয়ারী পশ্চিম থানা আমির ফারুক হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল লতিফ, জাহাঙ্গীর হোসেন ও হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

জুলাই সনদের আলোকে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফেরাতে সংসদে সংশোধন প্রয়োজন: বদিউল আলম

জুলাই সনদের আলোকে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফেরাতে সংসদে সংশোধন প্রয়োজন: বদিউল আলম

 "নির্বাচন ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে ছাত্র-জনতার জুলাই সনদের আলোকে সংসদে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২৩:০০

ছবি: ফাইল ছবি / সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে সত্যিকারের কার্যকর, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে অবিলম্বে জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে। আর এই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গঠিত হতে হবে ছাত্র-জনতার ‘জুলাই সনদ’-এর আলোকে।

এমনটিই দাবি করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মেট্রোপলিটন চেম্বারে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আদালতের রায়ে সন্তোষ ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান: সংবাদ সম্মেলনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাম্প্রতিক রায়, সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সংসদীয় কাঠামোর ভেতর দিয়ে এর স্থায়ী সমাধান হওয়া জরুরি।

অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য দেশের রাজনীতিবিদদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে সুজন সম্পাদক বলেন, "দেশের সাধারণ জনগণ ইতোমধ্যে জুলাই সনদের পক্ষে নিজেদের রায় বা ম্যান্ডেট দিয়ে দিয়েছে। বর্তমান সরকারের উচিত জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি পূর্ণ সম্মান দেখিয়ে এই রায়টি বিনাদ্বিধায় মেনে নেওয়া।" আগামী দিনে এই নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার প্রধান কে হবেন, তা বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদই নির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংকটের দায় এড়াতে পারে না সুপ্রিম কোর্ট: একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া বিগত দিনের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সংকটের পেছনের কারণগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মূলত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বেআইনিভাবে বাতিলের মধ্য দিয়েই দেশে দীর্ঘ ১৬ বছরের চরম স্বৈরতান্ত্রিক শাসনকাঠামোর গোড়াপত্তন হয়েছিল।

এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের পেছনে সেসময়ের দলীয় মানসিকতার বিচারকদের দেওয়া রায়কেই সরাসরি দায়ী করেন ড. শরীফ ভূঁইয়া। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এর ঐতিহাসিক দায় কোনোভাবেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্ট এড়াতে পারে না।

প্রতিভা ও শুদ্ধ শিল্পচর্চার উৎসব: জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে শেষ হলো সসাসের ‘সেরাদের সেরা সিজন-৬’

প্রতিভা ও শুদ্ধ শিল্পচর্চার উৎসব: জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে শেষ হলো সসাসের ‘সেরাদের সেরা সিজন-৬’

 "দেশের তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ (সসাস) আয়োজিত জাতীয় প্রতিযোগিতা ‘সেরাদের সেরা সিজন-৬’ জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিজয়ীদের দেওয়া হয়েছে ২০ লাখ টাকার পুরস্কার।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২২:৫৫

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের তরুণ প্রজন্মের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ার মহান প্রত্যয়ে সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ (সসাস) আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা ‘সেরাদের সেরা সিজন-৬’ জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

গান, অভিনয় ও আবৃত্তি— এই তিনটি ভিন্ন বিভাগে দেশব্যাপী মেধা অন্বেষণের এই বিশাল আয়োজনে অংশ নেন ১২ হাজারের বেশি প্রতিযোগী।

বাছাই প্রক্রিয়া ও সম্প্রচার: আয়োজকরা জানান, থানা, উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় এবং সবশেষে জাতীয় পর্যায়— এমন কয়েকটি কঠিন ধাপ পেরিয়ে প্রতিটি বিভাগ থেকে সেরা ১০ জন করে প্রতিযোগীকে চূড়ান্ত পর্বের জন্য বাছাই করা হয়। এই সেরা প্রতিযোগীদের নিয়ে রমজান মাসজুড়ে দেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল নাইন’ (Channel 9)-এর পর্দায় একটি বিশেষ ধারাবাহিক অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়। প্রতিদিন দুপুর আড়াইটা থেকে ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত দর্শকরা মেধাভিত্তিক এই নান্দনিক আয়োজন উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় ছিলেন জনপ্রিয় আরজে টুটুল এবং টেলিভিশন পর্বগুলো পরিচালনা করেন আব্দুল্লাহিল কাফী।

দুটি গ্রুপে লড়াই ও পুরস্কার: অনলাইনে সসাসের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধনের পর পুরো প্রতিযোগিতাটি দুটি গ্রুপে বিভক্ত করে অনুষ্ঠিত হয়। 'ক' গ্রুপে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এবং 'খ' গ্রুপে নবম শ্রেণি থেকে মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এবারের আয়োজনে বিজয়ীদের উৎসাহ দিতে মোট ২০ লাখ টাকার বিশাল পুরস্কার তহবিল গঠন করা হয়। এর মধ্যে চূড়ান্ত চ্যাম্পিয়ন পেয়েছেন নগদ ১ লাখ টাকা, প্রথম রানারআপ ৭৫ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপ পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিটি বিভাগের সেরা ১০ জনকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

আয়োজকদের বক্তব্য ও নেপথ্যের কারিগর: ‘সেরাদের সেরা সিজন-৬’-এর সফল এই আয়োজনে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এইচ এম আবু মুসা এবং সার্বিক পরিচালক ছিলেন জাকির হোসাইন। ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন ইসরাইল হোসেন শান্ত। এছাড়া আলিফ নুর, ইবনে বাশার আরাফ, তানভির আহমেদ শিবলীসহ আরও বেশ কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রমে অনুষ্ঠানটি সফলতা পায়।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান সসাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, "সংস্কৃতি কোনো বিলাসিতা নয়, এটি একটি জাতির আত্মার প্রতিচ্ছবি।" তাদের মতে, এটি নিছক কোনো প্রতিযোগিতা নয়; বরং প্রতিভা, নৈতিকতা এবং শুদ্ধ শিল্পচর্চার এক বিশাল প্ল্যাটফর্ম। এখান থেকেই ভবিষ্যতে এমন সব গুণী শিল্পী উঠে আসবেন, যারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন।

আমাদের ঘাড়ে কারও আধিপত্য মানব না’, চীনা রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিতে কড়া বার্তা জামায়াত আমিরের

আমাদের ঘাড়ে কারও আধিপত্য মানব না’, চীনা রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিতে কড়া বার্তা জামায়াত আমিরের

"রাজধানীর মিরপুরে চীনা রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের ওপর কারও আধিপত্য বা খবরদারি মেনে নেওয়া হবে না।"

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২২:৫৫

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের ওপর কোনো বিদেশি শক্তির আধিপত্য বা খবরদারি মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর মিরপুরে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে চীনের সহায়তায় ‘ফুড প্যাক’ বা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন।

আধিপত্যবাদীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি: ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, "আমরা কোনোভাবেই আমাদের ঘাড়ে কারও আধিপত্য মেনে নেব না। আমাদের দেশের সচেতন ও আত্মমর্যাদাশীল যুবসমাজ এটি কখনোই সহ্য করবে না। তারা মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায় এবং সারা বিশ্বের বুকে বুক ফুলিয়ে নিজেদের গর্বিত বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিতে চায়।"

চীনের প্রশংসা ও বিগত সরকারের সমালোচনা: চীনের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘ ৫০ বছরের বন্ধুত্বপূর্ণ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ১৯৭৫ সালে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির পর থেকে চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে। অন্যান্য দেশের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, "অনেকে আমাদের দেশকে কিছুই না দিয়ে উল্টো সবকিছু কেড়ে নেয় এবং পান থেকে চুন খসলেই যখন-তখন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু চীন কখনোই তা করে না, তারা সবসময় প্রকৃত বন্ধুর পরিচয় দিয়ে এসেছে।"

বিগত সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, "অনুষ্ঠানের এই হলরুমটি সম্পূর্ণ চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশের জন্য একটি উপহার ছিল। এখানে আমাদের কোনো টাকা নেই। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার চরম অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে এই বন্ধুত্বের নিদর্শনটি হাইজ্যাক করেছিল। তারা একটি দেশের ভালোবাসার উপহারের নাম-নিশানা মুছে দিয়ে সেখানে তাদের বাপের নাম লিখে দিয়েছিল।"

চীনা রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য ও প্রত্যাশা: অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, "ঈদ হলো ভালোবাসা, আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উৎসব। আপনাদের ঈদের প্রস্তুতিতে কিছুটা সহায়তা করতেই আমরা এই উপহারগুলো নিয়ে এসেছি।"

এ সময় তিনি বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ডা. শফিকুর রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। চীনা রাষ্ট্রদূত প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী ও ডা. শফিকুর রহমান পূর্ণ সমর্থন জোগাবেন। বাংলাদেশের মুসলিম ভাই-বোনেরা একটি নতুন, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে অংশীদার হবে বলেও তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।