বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে: অর্থমন্ত্রী

 "মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বৈশ্বিক চাপের মধ্যেও সরকার দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।"

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রকাশ : রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬, ১৯:৩০

ছবি: বাসস / সংগৃহীত

চট্টগ্রাম: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং চরম বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (২২ মার্চ) চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদিবাগে নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের সাথে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানি সরবরাহ ও স্বস্তির ঈদযাত্রা: অর্থমন্ত্রী বলেন, চারপাশের এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি ঠেকানো এবং নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি এনে দিয়েছে।

যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক চাপ তৈরি হলেও সরকার দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছে। এর ফলেই এবারের ঈদযাত্রায় কোথাও জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন বন্ধ হয়নি কিংবা ভাড়াও বাড়েনি। সরকার এই স্বস্তির ধারা অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর।

সংযম ও সতর্কতার আহ্বান: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, "নতুন করে জ্বালানি তেলের উৎস খোঁজা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই চাপের মাত্রা আরও বাড়বে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত আমাদের দেশের মানুষের ওপরও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।" এই কঠিন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় তিনি দেশের জনগণকে আরও বেশি সংযমী, সহানুভূতিশীল এবং সরকারের প্রতি সহযোগিতাপূর্ণ হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

শ্রমিক অসন্তোষহীন ঈদ ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ: বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই জ্যেষ্ঠ সদস্য বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশের সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরে পাওয়ায় এবারের ঈদ সম্পূর্ণ নির্ভয়ে এবং অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে।

এবারের ঈদে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা আগেই পরিশোধ করা হয়েছে, ফলে অতীতের মতো কোনো শ্রমিক অসন্তোষ দেখা যায়নি। একে একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

পাশাপাশি তিনি বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমুখী নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের জন্য ফারমার্স কার্ড চালু করেছে। এছাড়া কৃষকদের হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ এবং দেশের ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য বিশেষ ভাতা প্রদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।