শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার চার্জ গঠনের শুনানি ১৫ এপ্রিল

 "অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি আগামী ১৫ এপ্রিল নির্ধারণ করেছেন আদালত।"

অনলাইন ডেস্ক 

প্রকাশ : সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ১৭:৪৫

ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আরও ২৮৫ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ১৫ এপ্রিল নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। মূলত 'জয় বাংলা ব্রিগেড'-এর একটি অনলাইন জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে এই মামলাটি করা হয়েছিল।

আদালতের কার্যক্রম: সোমবার (৯ মার্চ) ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর এজলাসে এই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুনানির প্রস্তুতি নিতে আদালতের কাছে বাড়তি সময় প্রার্থনা করেন। তাদের সেই আবেদন মঞ্জুর করে বিচারক আগামী ১৫ এপ্রিল শুনানির পরবর্তী তারিখ ঠিক করেছেন।

আসামিদের বর্তমান অবস্থা: আদালত ও মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, এই আলোচিত মামলায় শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ ২৫৯ জনই বর্তমানে পলাতক আছেন। অন্যদিকে, সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও যুব মহিলা লীগের নেত্রী সাবিনা আক্তার তুহিনসহ বাকি ২৭ জন গ্রেফতার হয়ে এখন কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

মামলার প্রেক্ষাপট ও জুম মিটিং: মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর দেশ-বিদেশের প্রায় ৫৭৭ জন নেতাকর্মী নিয়ে 'জয় বাংলা ব্রিগেড' নামে একটি প্ল্যাটফর্মে জুম মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলমের সঞ্চালনায় (হোস্টিং) ওই ভার্চুয়াল সভায় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাও যুক্ত ছিলেন। সেখানে বর্তমান বৈধ সরকারকে শান্তিতে দেশ পরিচালনা করতে না দেওয়া এবং গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর ষড়যন্ত্রমূলক আলোচনা হয়।

মামলা দায়ের ও চার্জশিট: ওই মিটিংয়ের অডিও ও ভয়েস রেকর্ড পর্যালোচনার পর রাষ্ট্রদ্রোহের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই বছরেরই ১৪ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনের নামে আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন তদন্তকারী এই কর্মকর্তা।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আসামি: এই মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— ড. রাব্বি আলম, সাবিনা আক্তার তুহিন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাবেক এমপি পংকজ নাথ, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সৈয়দ রুবিনা আক্তার, কবিরুল ইসলাম প্রমুখ।