"ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার আসামিরা ভারতে গ্রেফতার হওয়ার পর অনুপ্রবেশের দায় নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়েছে।"
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২১:২০
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
কলকাতা: বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন গত রোববার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন। আর এই চাঞ্চল্যকর গ্রেফতারের পর থেকেই অভিযুক্তদের ভারতে অনুপ্রবেশের দায় নিয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এবং পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ: পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনার পর সরাসরি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কঠোর সমালোচনা করেছে। দলটির মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী প্রশ্ন তুলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণাধীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কড়া নজরদারি এড়িয়ে এই দুই খুনের আসামি কীভাবে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করল?
অরূপ চক্রবর্তীর দাবি, এই দুই অভিযুক্ত মূলত মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকেছে, যেখানে বর্তমানে বিজেপির জোট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। এরপর তারা আসাম এবং ত্রিপুরা পার হয়ে পশ্চিমবঙ্গে আসে। এই দুই রাজ্যেও বিজেপির 'ডাবল ইঞ্জিন' সরকার চলছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, "অমিত শাহ আমাদের সীমান্ত রক্ষায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। দুই রাজ্যের পুলিশ এবং বিএসএফের চোখে ধুলো দিয়ে এই অপরাধীরা দেশে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত মমতা ব্যানার্জির পুলিশই তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।"
বিজেপির পাল্টা জবাব: তৃণমূলের এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির রাজ্য মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের পাল্টা অভিযোগ, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যটিকে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অপরাধীদের জন্য একটি 'নিরাপদ আশ্রয়ে' (সেফ হ্যাভেন) পরিণত করেছে।
তিনি বলেন, "শুধু হাদি হত্যার আসামিরাই নয়, বিভিন্ন সময়ে অপরাধ করে পালিয়ে আসা দুষ্কৃতীদের নিরাপদ ঠিকানা এখন পশ্চিমবঙ্গ।" দেবজিৎ সরকার আরও উল্লেখ করেন, এই রাজ্যের প্রায় ৪০০ কিলোমিটার সীমান্ত এখনো অরক্ষিত বা 'পোরাস' অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনার পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিএসএফকে যেভাবে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও সীমান্তরক্ষী বাহিনী সন্তুষ্ট নয় বলে দাবি করেন বিজেপির এই নেতা।
