গণভোটের রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে সরকার: ড. হেলাল উদ্দিন

 "জুলাই সনদের পক্ষে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার টালবাহানা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন।"

অনলাইন ডেস্ক 

প্রকাশ : সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২১:৩০

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই সনদের পক্ষে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে টালবাহানা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রায় মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করা হলে এ দেশের ছাত্র-জনতা তা কঠোরভাবে রুখে দেবে।

পল্টনে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল: সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর পল্টন থানার বায়তুল মোকাররম সাংগঠনিক ওয়ার্ড আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, "বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে প্রকাশ্যে জনসভায় জুলাই সনদের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। অথচ জনগণ যখন বিপুল সমর্থন দিয়ে হ্যাঁ ভোট দিল, তখন সরকার গঠন করে তিনি এই রায় বাস্তবায়নের বদলে বিষয়টি আদালতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।" এর কারণ ব্যাখ্যা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করা যাবে না, দুর্নীতি কিংবা সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজির সুযোগ থাকবে না। মূলত এই ভয়েই সরকার রায় বাস্তবায়ন এড়িয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ: বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ক্ষমতায় গেলে তারা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের দমন করবে। কিন্তু সরকার গঠনের এক মাস পার হলেও তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো দেশে খুন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজি আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ আজ অতিষ্ঠ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারকে অবিলম্বে 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণের জোর আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দেন ড. হেলাল।

বায়তুল মোকাররম সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সভাপতি এনামুল হক শামীমের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান, পল্টন থানা আমির অ্যাডভোকেট মারুফুল ইসলাম, পল্টন থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম এবং সাবেক কাউন্সিলর খন্দকার আব্দুর রব।

আরামবাগে ইফতার মাহফিল: একই দিন আরামবাগ ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত আরেকটি ইফতার মাহফিলে যোগ দেন ড. হেলাল উদ্দিন। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্নীতি ও সন্ত্রাস বন্ধ করা। সমাজ ও রাষ্ট্রকে দুর্নীতিমুক্ত করতে এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় খোদাভীরু বা তাকওয়াবান নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই।

মতিঝিল দক্ষিণ থানার আরামবাগ ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও মতিঝিল দক্ষিণ থানা আমির মাওলানা মুতাছিম বিল্লাহ।