১৪ এপ্রিল 'কৃষক কার্ড' কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 "আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষকদের জন্য থাকছে নানা সরকারি সুবিধা।"

অনলাইন ডেস্ক 

প্রকাশ : বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:৩২

"আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষকদের জন্য থাকছে নানা সরকারি সুবিধা।"
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উপলক্ষে দেশে পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এই যুগান্তকারী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এক বিশেষ পর্যালোচনা সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

তদারকি ও বাস্তবায়ন: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই পুরো কর্মসূচিটি নিবিড়ভাবে তদারকির লক্ষ্যে অর্থ সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশেষ সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই) সরাসরি এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে। এদিনের সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষক কার্ডের বহুমুখী সুবিধা: প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, "এই কার্ডটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ পরিচয়পত্র নয়; বরং এটি দেশের খেটে খাওয়া কৃষকদের ন্যায্য অধিকার, সম্মান এবং সামাজিক নিরাপত্তার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে কাজ করবে"। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ধাপে ধাপে যেসব সরকারি সুবিধা পাবেন:

  • কৃষকরা সাশ্রয়ী মূল্যে বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারবেন।

  • সরকারি প্রণোদনা ও ভর্তুকি সরাসরি তাদের হাতে পৌঁছাবে।

  • ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা ও সহজ শর্তে কৃষিঋণ নিশ্চিত করা হবে।

  • কৃষি বীমা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে আবহাওয়া ও বাজারের সর্বশেষ তথ্য জানতে পারবেন।

  • ফসলের রোগবালাই দমনে বিশেষজ্ঞদের সরাসরি পরামর্শ পাওয়া যাবে।

  • শুধু শস্য উৎপাদনকারী নয়, বরং মৎস্য চাষি, গবাদিপশু এবং দুগ্ধ খামারিরাও এই কার্ডের আওতাভুক্ত হবেন।

পাইলট প্রকল্প ও আর্থিক সহায়তা: আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে প্রাক-পাইলট পর্যায়ের অংশ হিসেবে সব শ্রেণির কৃষকের ডাটাবেজ বা তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন করা হবে। এরপর দেশের আটটি বিভাগের নির্বাচিত নয়টি উপজেলার নয়টি ব্লকে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্ড দেওয়া হবে। নির্বাচিত উপজেলাগুলো হলো— টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর এবং কক্সবাজারের টেকনাফ।

এই কর্মসূচির আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা গড়ে আড়াই হাজার (২,৫০০) টাকা করে কৃষি উপকরণ সহায়তা বা ভর্তুকি পাবেন। পাশাপাশি খরিফ-১ এবং খরিফ-২ মৌসুমের জন্য নির্দিষ্ট কৃষকদের সরকার নির্ধারিত হারে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে।

প্রাক-পাইলট ও পাইলট ধাপ সফলভাবে শেষ করে আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এই 'কৃষক কার্ড' কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।