অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ২৩:৪৫
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি): সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্র অধিকার পরিষদ এবং রাকসু (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ) নেতাদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে খোদ রাকসু ভবনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারের কার্যালয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত: ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ রাকসুর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, "রাকসু তাদের মূল দায়িত্ব (ফরজ কাজ) এড়িয়ে ঐচ্ছিক বিষয় (নফল কাজ) নিয়ে বেশি ব্যস্ত।"
এই স্ট্যাটাসের কমেন্ট বক্সে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার মন্তব্য করেন— ‘চুলকানি শুরু মলমের নাম নুরু’। মূলত এই মন্তব্যটিকে ঘিরেই সোমবার দুপুরে মেহেদী মারুফ তার অনুসারীদের নিয়ে রাকসু কার্যালয়ে গেলে জিএস আম্মারের সাথে তাদের পাল্টাপাল্টি কথা-কাটাকাটি ও তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
ছাত্র অধিকার সভাপতির অভিযোগ: কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এসে মেহেদী মারুফ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি রাকসুর গঠনমূলক সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু এর জবাবে জিএস আম্মার সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।
মারুফ আরও অভিযোগ করেন, কমেন্টের একপর্যায়ে জিএস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অত্যন্ত অশালীন ও অকথ্য ভাষা ব্যবহার করেছেন। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির এমন শব্দচয়নকে 'নৈতিক স্খলন' আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, এর প্রতিকার চেয়ে খুব শিগগিরই তারা রাকসুর সভাপতি ড. সলেহ হাসান নকিবের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবেন।
রাকসু জিএস-এর পাল্টা দাবি: অন্যদিকে, ছাত্র অধিকার পরিষদের তোলা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার। তার দাবি, ফেসবুকের একটি সাধারণ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তারা তিলকে তাল করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, "বর্তমানে রাজনীতির মাঠে সবাই যখন শান্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে কেবল মিডিয়ার মনোযোগ (অ্যাটেনশন) কাড়তে এবং ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতেই তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে।"
