নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ২০:১০
চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বিএনপির হামলায় গুরুতর আহত জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান (৫৫) মারা গেছেন। রোববার (১ মার্চ) রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত হাফিজুর রহমান স্থানীয় ‘ঢাকা জুয়েলার্স’-এর স্বত্বাধিকারী ও পরিচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী ছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জীবননগরের হাসাদহ বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মেহেদী হাসানের মহড়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর হাসাদহ কামিল মাদরাসা গেটের সামনে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মফিজুর রহমান আক্রান্ত হলে তাঁকে বাঁচাতে বড় ভাই হাফিজুর রহমান এগিয়ে যান। এসময় প্রতিপক্ষ গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হাফিজুরকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।
চিকিৎসা ও মৃত্যু: আহতদের প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আনা হয়। রাজধানীর কাকরাইলে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাফিজুর রহমান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর ছোট ভাই ও স্থানীয় জামায়াত নেতা মফিজুর রহমান বর্তমানে ঢাকার অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন।
তদন্ত ও জানাজা: চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াত আমির অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন এই ঘটনাকে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করেছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন। জীবননগর থানার ওসি সোলাইমান শেখ জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। রোববার বিকেলে জানাজা শেষে নিহতের মরদেহ নিজ গ্রাম সুটিয়াতে দাফন করার কথা রয়েছে।
নেতৃবৃন্দের পরিদর্শন: এদিকে রোববার সকালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন আহত জামায়াত নেতা মফিজুর রহমানকে দেখতে হাসপাতালে যান জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
