খামেনি হত্যা ও ইরানে আগ্রাসনের প্রতিবাদে ঢাকায় জামায়াতের বিশাল শোডাউন

 নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৯:৪৫



ঢাকা: মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সমন্বিত হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকায় বিশাল গণজমায়েত ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববারের (১ মার্চ) এই রাজপথের কর্মসূচি থেকে আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে চালানো বর্বরোচিত এই হামলার কড়া জবাব চাওয়া হয়।

দলের ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ শাখার যৌথ আয়োজনে এদিন বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর ফটকের সামনে এই প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। কর্মসূচিতে দলটির হাজারো নেতাকর্মী, ছাত্র সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন।

সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের সমালোচনা: অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, "ইসলামের জাগরণ সহ্য করতে না পেরেই মূলত ইসরায়েলকে ঘুঁটি বানিয়ে স্বাধীন ভূখণ্ড ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে।" মানবাধিকারের ফেরিওয়ালা দেশগুলোর এমন দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘ এবং ওআইসি-কে প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর কাছে মাথানত না করে কার্যকরী ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন। এছাড়া, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দলের কর্মীদের ওপর চলমান হামলার বিচারও দাবি করেন তিনি।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এই আগ্রাসনের পেছনে ইসরায়েলের পাশাপাশি আরও অনেক বড় পরাশক্তির ইন্ধন রয়েছে, যা গোটা বিশ্বকে চরম অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

নিন্দা প্রস্তাব ও ঐক্যের ডাক: জাতীয় সংসদের আসন্ন প্রথম অধিবেশনেই খামেনি হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপনের জোর দাবি জানান কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। অন্যদিকে, পরাশক্তির এমন অন্যায্য হামলার বিরুদ্ধে বিশ্বের সব মুসলিম রাষ্ট্রকে এক ছাতার নিচে আসার আহ্বান জানান ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

চুয়াডাঙ্গায় কর্মী হত্যার বিচার দাবি: ইরান ইস্যুর পাশাপাশি এই সমাবেশ থেকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান হত্যার দ্রুত বিচার চাওয়া হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইফতারের পর ঘটা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য বিএনপির কতিপয় সন্ত্রাসীদের দায়ী করেন বক্তারা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে দেশব্যাপী কঠোর গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, যার সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারকে নিতে হবে বলে জানান তারা।

সমাবেশটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ড. রেজাউল করিম। আলোচনা শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর ফটক থেকে একটি বিশাল প্রতিবাদী মিছিল শুরু হয়ে বিজয়নগর ও কাকরাইল মোড় প্রদক্ষিণ করে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়।