সাবেক দুই উপদেষ্টা ‘নতুন মীরজাফর’: রিজওয়ানা ও খলিলুরকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জামায়াতের

 "সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও খলিলুর রহমানকে 'নতুন মীরজাফর' আখ্যা দিয়ে নির্বাচন কারচুপির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।"

অনলাইন ডেস্ক 

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০:৩৭

"সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও খলিলুর রহমানকে 'নতুন মীরজাফর' আখ্যা দিয়ে নির্বাচন কারচুপির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।"
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই উপদেষ্টাকে ‘নতুন মীরজাফর’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কারচুপির (ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং) গুরুতর অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির জোর দাবি, অবাধ নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা নস্যাৎ করার নেপথ্যে কারা জড়িত ছিল তা বের করতে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলন ও আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা: বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এসব কথা বলেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি জানান, জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ ইতোমধ্যে ৫৩টি আসনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল করেছে জামায়াত। এর প্রেক্ষিতে তাদের আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে।

রিজওয়ানা হাসান ‘কারচুপির রাজসাক্ষী’: সংবাদ সম্মেলনে ডা. তাহের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের 'রাজসাক্ষী' হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, নারীদের অধিকার নিশ্চিত করার অজুহাত দেখিয়ে বিরোধী দলকে মূলধারায় বা প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দেওয়া হয়নি— রিজওয়ানার এমন মন্তব্যের মাধ্যমেই তাদের কারচুপির বিষয়টি দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে।

জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা প্রশ্ন রাখেন, "সাবেক এই উপদেষ্টার কাছে জাতি জানতে চায়, নির্বাচন প্রভাবিত করার এই নীল নকশায় তার সঙ্গে আর কে কে যুক্ত ছিল? পুরো অন্তর্বর্তী সরকারই কি জড়িত ছিল, নাকি সরকারের ভেতরের কোনো প্রভাবশালী অংশ এই কাজ করেছে?"

খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘লন্ডন ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ: বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সাবেক উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে নিয়েও এ সময় তীব্র সমালোচনা করে জামায়াত। ডা. তাহের স্মরণ করিয়ে দেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের পরবর্তীতে কোনো দলীয় সরকারের লাভজনক পদে বা মন্ত্রী না হওয়ার বিষয়ে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে সেই শপথের বরখেলাপ করেছেন।

তাকে ‘লন্ডন ষড়যন্ত্রের প্রধান হোতা’ আখ্যা দিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির অভিযোগ করেন, "বর্তমান ক্ষমতাসীনদের অন্যায্য সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য তিনি ভেতর থেকে কলকাঠি নেড়েছেন। আর সেই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের পুরস্কার হিসেবেই তিনি আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন।"

পরিশেষে, জাতির একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বপ্নকে ভণ্ডুল করে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই দুই সাবেক উপদেষ্টাকে দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করার জোর দাবি জানায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।