হরমুজ প্রণালিতে ট্রাম্পের ডাকে সাড়া দিল না জার্মানি, ন্যাটো জড়াবে না সংঘাতে

 "পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক সহায়তার আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে জার্মানি।"

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ : সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২২:৫০

তথ্যসূত্র ও ছবি: সিএনএন / সংগৃহীত

বার্লিন: মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত কৌশলগত জলপথ পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরবচ্ছিন্ন চলাচল ও নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্রদের কাছে যে সামরিক সাহায্য চেয়েছিলেন, তা সাফ প্রত্যাখ্যান করেছে বার্লিন। জার্মান সরকার অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, চলমান এই সামরিক সংঘাতের সাথে সামরিক জোট ন্যাটোর (NATO) বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক নেই।

ন্যাটোর যুদ্ধ নয় এটি: সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের একজন মুখপাত্র কঠোর ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রের এই আহ্বানের জবাব দেন। তিনি বলেন, "এটি কোনোভাবেই ন্যাটোর যুদ্ধ নয়। ফলে এই সংঘাতে জোটভুক্ত মিত্র দেশগুলোর অংশগ্রহণ করার কোনো যৌক্তিক কারণ বা ভিত্তি নেই।"

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও বার্লিনের অনড় অবস্থান: সম্প্রতি ন্যাটো জোটকে লক্ষ্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, এই জোটে যুক্তরাষ্ট্রকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না করা হলে এর ভবিষ্যৎ অত্যন্ত ‘খারাপ’ হতে পারে। ট্রাম্পের এমন কড়া বার্তার জবাবেই মূলত জার্মানি নিজেদের এই অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করল।

জার্মান সরকার আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের সামরিক তৎপরতা বা নজরদারি মিশনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা তাদের অতীতেও ছিল না এবং বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও এমন কোনো সম্ভাবনা তারা দেখছে না। এদিন সকালে ব্রাসেলসে পৌঁছানোর পর জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুলও সাংবাদিকদের একই কথা জানান। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতিতে ন্যাটো সদস্যদের কোনো ভূমিকা পালনের সুযোগ তিনি দেখছেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নিয়ে চ্যান্সেলরের সমালোচনা: ইরানের সাথে চলমান এই সংঘাত সহসাই থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ তার অবস্থান আরও কঠোর করেছেন। গত সপ্তাহে রাশিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তে ওয়াশিংটনের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। মার্জ বলেন, এই যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের আসল পরিকল্পনা বা রূপরেখা আসলে কী, তা এখনো ইউরোপের কাছে সম্পূর্ণ অস্পষ্ট।

চ্যান্সেলরের মুখপাত্র এ প্রসঙ্গে মনে করিয়ে দেন যে, এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে খোদ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল বেশ দম্ভভরেই জানিয়েছিল যে, এই সামরিক অভিযানে ইউরোপীয় দেশগুলোর কোনো সহায়তা তাদের প্রয়োজন নেই।

ডাচ প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক: সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইউরোপের পরবর্তী করণীয় এবং ট্রাম্পের এই অযাচিত চাপ মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণ করতে সোমবার বার্লিনে ডাচ (নেদারল্যান্ডস) প্রধানমন্ত্রী রব জেটেনের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন জার্মান চ্যান্সেলর।