তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রূপকার সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের ৪ মামলায় জামিন

 "সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার রায় দেওয়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ৪টি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন।"

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রকাশ : রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ১৬:১৫

ছবি: সংগৃহীত

পৃথক চারটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। রোববার (৮ মার্চ) বিচারপতি খায়রুল আলম এবং বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। জামিন প্রশ্নে এর আগে জারি করা একটি রুল যথাযথ ঘোষণা করে এই আদেশ দেওয়া হয়।

আদালতে আইনি লড়াই: আদালতে সাবেক এই প্রধান বিচারপতির জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার সারাহ হোসেন এবং সাঈদ আহমেদ রাজা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল ইসলাম সুমন।

যেসব মামলায় জামিন পেলেন: জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকার পতনের প্রায় এক বছর পর, গত ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসভবন থেকে খায়রুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

এছাড়াও, বেআইনি ও জাল রায় তৈরির অভিযোগে গত বছরের ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় নুরুল ইসলাম মোল্লা একটি মামলা দায়ের করেন। একই অভিযোগে ২৭ আগস্ট রাজধানীর শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন আরও একটি মামলা করেন। এই চার মামলাতেই আজ তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেন।

তবে এই চার মামলার বাইরেও বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে আলাদা একটি মামলা করেছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দায়িত্ব পালনকালে ২০১১ সালের ১০ মে তার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন। মূলত তার দেওয়া ওই রায়ের প্রেক্ষিতেই দেশে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে যায়।