"৫টি ব্যাংক একীভূত করে গঠিত রাষ্ট্রায়ত্ত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ইস্তফা দিয়েছেন সাবেক সচিব মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া।"
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২২:৩০
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
ঢাকা: ৫টি বেসরকারি ব্যাংককে একীভূত করে সদ্য গঠিত রাষ্ট্রায়ত্ত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দিয়েছেন সাবেক সচিব মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া।
সোমবার (১৬ মার্চ) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে লিখিতভাবে তিনি এই পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগের নেপথ্য কারণ: গণমাধ্যমের কাছে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইয়ুব মিয়া জানান, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ইচ্ছাতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আমার বয়স হয়েছে, তাই নতুন করে এত বড় কোনো দায়িত্ব কাঁধে নিতে চাইছি না। জীবনের বাকি সময়টুকু একেবারেই চাপমুক্ত থেকে অবসরে কাটাতে চাই।"
উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর সরকার তাকে নতুন এই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছিল। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথাতেই তিনি পদ ছেড়ে দিলেন।
যে প্রেক্ষাপটে ৫ ব্যাংক একীভূত হয়: গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের ব্যাংক খাতের নাজুক পরিস্থিতি প্রকাশ্যে আসে। সে সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর কয়েকটি ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। এরপরই এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক থেকে আতঙ্কে গ্রাহকরা আমানত তুলে নিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে সংকট সামাল দিতে এই পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে 'সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক' গঠন করে সরকার।
নতুন ব্যাংকের মূলধন ও গ্রাহক নিরাপত্তা: সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোকে বাঁচাতে নতুন এই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করে। এর মধ্যে সরকার জোগান দেয় ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল আমানতকারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। পাশাপাশি, প্রায় ৭৮ লাখ সাধারণ গ্রাহকের আমানত সুরক্ষিত রাখতে বিমা তহবিল থেকে জনপ্রতি ২ লাখ টাকা করে মোট ১২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের একটি বিশেষ উদ্যোগও নেওয়া হয়।
