"রাজধানীর কড়াইল বস্তি এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। আগামী ৫ বছরে ৪ কোটি পরিবার পাবে এই সুবিধা।"
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২০:৩০
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত/বাসস |
দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদের অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা ছাড়া বাংলাদেশকে কোনোভাবেই সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর বনানীতে কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
নারীর ক্ষমতায়ন ও ফ্যামিলি কার্ডের পরিধি: সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা অবৈতনিক করেছিলেন। বর্তমান সরকার সেই শিক্ষিত নারী সমাজকেই এখন আর্থিকভাবে সচ্ছল ও ক্ষমতায়িত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তারই অংশ হিসেবে সারা দেশে পর্যায়ক্রমে এই ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হচ্ছে।
পাইলট প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে দেশের ১৪টি উপজেলা বা স্থানে একযোগে এই কর্মসূচির কাজ শুরু হয়েছে, যেখানে যুক্ত হয়েছেন প্রায় ৩৭ হাজার নারী। এর মধ্যে উদ্বোধনী দিনেই রাজধানীর কড়াইল, ভাসানটেক এবং সাততলা বস্তি এলাকার প্রায় ১৫ হাজার নারীকে এই ফ্যামিলি কার্ড হস্তান্তর করা হয়। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের চার কোটি নারীপ্রধান পরিবারে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
কৃষকদের জন্য সুখবর ও অন্যান্য প্রতিশ্রুতি: সরকার গঠনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ শুরু করতে পারায় মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন তারেক রহমান। এটি তাঁর জন্য অত্যন্ত আবেগঘন ও ঐতিহাসিক একটি দিন উল্লেখ করে তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি খুব শিগগিরই কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু হবে, যা আগামী মাসের মধ্যেই অনেক কৃষকের হাতে পৌঁছাবে।
এছাড়া নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত যাদের কৃষিঋণ ছিল, গত সপ্তাহেই তা সুদসহ সম্পূর্ণ মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা ও প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাসহ বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে দেশবাসীর অনেক প্রত্যাশা রয়েছে এবং সরকার তার দেওয়া কোনো প্রতিশ্রুতি থেকে বিন্দুমাত্র সরবে না। তবে বৈশ্বিক প্রতিকূলতার কারণে ক্ষেত্রবিশেষে কিছু কাজ বাস্তবায়নে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে জানিয়ে তিনি জনগণকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান। নিজের বক্তব্যের শেষে তিনি তার সেই বহুল পরিচিত নির্বাচনী স্লোগান— "করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ" উচ্চারণ করেন।
উপস্থিত নারীদের উচ্ছ্বাস: এর আগে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি মঞ্চে না উঠে মাঠে অপেক্ষমাণ সাধারণ নারীদের কাছে ছুটে যান। দেশের সরকারপ্রধানকে এতটা আপন করে কাছে পেয়ে উপস্থিত নারীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে স্লোগান দিতে থাকেন।
