গাজীপুরে চাঞ্চল্যকর হত্যা: মোবাইল চাওয়ার অপরাধে ছোট ভাইকে শালবনে পুঁতে রাখল বড় ভাই!

 "গাজীপুরের জয়দেবপুরে বাবার কাছে মোবাইল ফোন চাওয়ার জেরে ছোট ভাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করে শালবনে লাশ গুম করল আপন বড় ভাই। প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ২।"

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৪:৩০

গাজীপুরে চাঞ্চল্যকর হত্যা: মোবাইল চাওয়ার অপরাধে ছোট ভাইকে শালবনে পুঁতে রাখল বড় ভাই!
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর: বাবার কাছে একটি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার বায়না ধরেছিল ১৩ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্র আব্দুর রহিম। আর সেই 'অপরাধেই' ক্ষুব্ধ হয়ে আপন ছোট ভাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বড় ভাই। হত্যার পর প্রমাণ মেটাতে গভীর শালবনের ভেতর গর্ত করে লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের এক মাস পর রহস্যের জট খুলেছে গাজীপুর জেলা পুলিশ।

ঘটনার মূল হোতা নিহত রহিমের বড় ভাই আলামিন হোসেন (২৩) এবং তার সহযোগী বন্ধু আশিক আহমেদকে (২০) গ্রেফতার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য: বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা তুলে ধরেন জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন।

তিনি জানান, নিখোঁজের পর থেকেই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যার আসল রহস্য উদ্ঘাটন এবং আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

যেভাবে ছক কষে খুন করা হয়: পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, জয়দেবপুরের ডগরি নয়াপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে রহিম স্থানীয় এবাদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত। বাবার কাছে তার মোবাইল চাওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি বড় ভাই আলামিন। ক্ষোভে সে তার বন্ধু আশিককে নিয়ে হত্যার ছক কষে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তারা রহিমকে বিকেবাড়ি পদ্মপাড়া এলাকার বাঁশরী রিসোর্টের সংলগ্ন সরকারি শালবনের গহীন জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে মাফলার দিয়ে গাছের সাথে তাকে বাঁধা হয় এবং মুখে লাগিয়ে দেওয়া হয় স্কচটেপ। একপর্যায়ে ছোট ভাই রহিম বিষয়টি বাবাকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে, আলামিন নিজ হাতে গলাটিপে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে পাশেই গর্ত খুঁড়ে লাশ পুঁতে রাখা হয় এবং আলামত নষ্ট করতে নিহতের জ্যাকেটটি আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

নিখোঁজ ডায়েরি থেকে লাশ উদ্ধার: ১ তারিখ সন্ধ্যা থেকে ছেলের খোঁজ না পেয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বাবা নুরুল ইসলাম। টানা খোঁজাখুঁজির পর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শালবনের ওই গর্ত থেকে রহিমের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মর্গে গিয়ে পোশাক দেখে ছেলের মরদেহ শনাক্ত করেন হতভাগ্য পিতা। পরদিন (২৭ ফেব্রুয়ারি) জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয় এবং এর তদন্তভার পান এসআই মো. মোজাম্মেল হক।

আসামিদের স্বীকারোক্তি: পুলিশের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে জয়দেবপুরের মির্জাপুর এলাকা থেকে ঘাতক আলামিন ও তার বন্ধু আশিককে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর আসামিরা ইতোমধ্যে আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছে।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবু খায়ের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. মোজাম্মেল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. মাহবুবুর রহমান এবং সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিপি রানী সিনহা।