২১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও অর্থপাচার: সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট

"জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ২১ কোটি টাকার অর্থপাচারের অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও তার স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে দুদক।"

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত/বাসস


জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও তার স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনার বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসা সম্পদের হিসাব: দুদকের দেওয়া তথ্যমতে, দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসাদুজ্জামান খানের স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনার নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের সন্ধান মিলেছে।

  • তদন্তে তার নামে মোট ১৮ কোটি ৪৩ লাখ ৫৮ হাজার ৯৭৪ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

  • এর পাশাপাশি তার পারিবারিক ব্যয় হিসেবে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭২৩ টাকা হিসাব করা হয়েছে।

  • ফলে তার মোট সম্পদের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ২০ কোটি ৯ লাখ ২৫ হাজার ৬৯৭ টাকায়।

  • অথচ এই বিশাল সম্পদের বিপরীতে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ পাওয়া গেছে মাত্র ৫ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার ২২৭ টাকা।

  • অর্থাৎ, হিসাব শেষে তার নামে ১৪ কোটি ৮৬ লাখ ৯৭ হাজার ৪৭০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বা অবৈধ সম্পদ পেয়েছে দুদক।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থপাচার: মামলার এজাহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান নিজের সরকারি ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে এবং ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে স্ত্রীকে এই অবৈধ সম্পদ অর্জনে সরাসরি সহায়তা করেছেন।

এর বাইরে তদন্তে লুৎফুল তাহমিনার মালিকানাধীন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৬ কোটি ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০ টাকা জমা হওয়ার তথ্যও পেয়েছে দুদক, যার উৎস সম্পূর্ণ সন্দেহজনক। দুদকের দাবি, ঘুষ বা উৎকোচ হিসেবে পাওয়া ওই অর্থ লেয়ারিং বা রূপান্তরের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা করে মূলত অবৈধ উৎস আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

আইনি পদক্ষেপ: সব মিলিয়ে অবৈধ সম্পদ (১৪ কোটি ৮৬ লাখ ৯৭ হাজার ৪৭০ টাকা) এবং সন্দেহজনক লেনদেনসহ (৬ কোটি ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০ টাকা) মোট ২১ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ২৫০ টাকার উৎস গোপন ও অর্থপাচারের সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে তদন্তকারী দল।

এসব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় এই চার্জশিট জমা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

/বাসস