অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১১:০১
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
তেহরান: দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ৮৫ জন নিহত হয়েছেন। শনিবারের (২৮ ফেব্রুয়ারি) এই বর্বরোচিত হামলায় পুরো অঞ্চলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মিনাবে রক্তক্ষয়ী চিত্র: ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরের ওই বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া হামলায় আরও ৬৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা (IRNA) জানিয়েছে, হামলার পর থেকে দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
তেহরানেও হামলা: মিনাবের পাশাপাশি রাজধানী তেহরানের পূর্ব দিকে অবস্থিত আরেকটি স্কুলেও ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। মেহর নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত দুইজন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে। একদিনে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন হামলায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের হুঁশিয়ারি: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “নির্দোষ শিশুরা এই বর্বরোচিত অপরাধের শিকার হয়েছে”। তিনি দৃঢ়ভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানি জনগণের ওপর চালানো এই অপরাধের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘স্পষ্ট অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
দাবির অসারতা: ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে আসছিল যে তারা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করছে। কিন্তু স্কুল ও বেসামরিক অবকাঠামোতে এই ভয়াবহ হামলার মাধ্যমে তাদের সেই দাবির অসারতা প্রমাণ হয়েছে বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত বছরের জুন মাস থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক আগ্রাসনের অংশ হিসেবেই এই হামলাকে দেখছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
